বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে বর্ধিত সভার পর সাংগঠনিক প্রতিবেদন নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

জেলা যুবলীগ সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে শরীয়তপুর জেলা যুবলীগের সম্মেলনে এমএম জাহাঙ্গীরকে সভাপতি, গোলাম মোস্তফাকে সহসভাপতি ও নুহুন মাদবরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এম এম জাহাঙ্গীর ২০১৯ সালে পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ওই কমিটির দুজন বিএনপিতে এবং পাঁচজন দেশের বাইরে চলে গেছেন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন দুজন।

শরীয়তপুর সদরের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন বর্তমান সাংসদ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন (অপু)। আরেক পক্ষের নেতৃত্ব দেন সাবেক সাংসদ ও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। গত সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে বি এম মোজাম্মেল হকের সমথ৴করা স্থানীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

যুবলীগের বর্ধিত সভা ঘিরে বিএম মোজাম্মেল হক সমর্থিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ও সাংসদ ইকবাল হোসেনের সমর্থিত ব্যক্তিরা তৎপরতা শুরু করেছেন।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইলে শিগগিরই সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
এমএম জাহাঙ্গীর, জেলা যুবলীগের সভাপতি

সভাপতি হওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান। এ ছাড়া রয়েছেন সাংসদ ইকবাল হোসেনের সমথ৴ক পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাচ্চু ব্যাপারী, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেন ও শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি তারিকুল ইসলাম সোহাগ। অন৵দিকে বিএম মোজাম্মেল হকের সমথ৴করা হলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক পাহাড়, সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন হাওলাদার। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন সাংসদের সমর্থক সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ কোতোয়াল ও পাভেল মুন্সি। অন৵দিকে বি এম মোজাম্মেল হক সমর্থিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম মাদবর।

সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। এ কারণে সুযোগসন্ধানীরা সংগঠনবিরোধী নানা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সামনে নতুন কমিটি হবে। আমি সভাপতি হওয়ার জন্য তৎপর রয়েছি।’

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক পাহাড় বলেন, ‘আমাদের দাবি—জেলা যুবলীগের সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠন করা হোক। নতুন নেতৃত্ব না এলে দলে গতি আসে না। সাফলে৵র সঙ্গে ছাত্রলীগ করেছি। যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পেলে সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে পারব। দ্রুত সময়ে যাতে সম্মেলন হয় এ জন্য তৎপর রয়েছি।’

জেলা যুবলীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর বলেন, নানা কারণে দীর্ঘদিনেও সম্মেলন করা যাচ্ছে না। তাই সাংগঠনিক সভা আহ্বান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইলে শিগগিরই সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

এ বিষয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেদ শওকত আলী বলেন, যুবলীগের কমিটি ও কর্মীদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সারা দেশে সাংগঠনিক সভা করা হচ্ছে। শরীয়তপুরে দীর্ঘদিন ধরে কমিটির মেয়াদ নেই। বর্ধিত সভার পর সাংগঠনিক প্রতিবেদন নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। অনেকেই নতুন কমিটির নেতা হওয়ার জন্য তৎপর হয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন