default-image

সাতক্ষীরায় পরকীয়ার জেরে গৃহবধূ ফাতেমা বেগম (৪০) ও যুবক করিম পাড়কে (৩০) হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানো হয়, সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল রোববার নিহত ফাতেমার স্বামী শেখ আহসান ও দেবর আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে কলারোয়া থানায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাহ উদ্দিন এ কথা বলেন।  

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের শেখ আহসানের স্ত্রী ফাতেমার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট এলাকার জয়নাল পাড়ের ছেলে করিম পাড়ের। গত শনিবার ঘটনার রাতে ফাতেমা ও করিমকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান বাক্‌প্রতিবন্ধী স্বামী শেখ আহসান। আহসান তাঁর ছোট ভাই আসাদের সহযোগিতায় প্রথমে দুজনকে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ওড়না দিয়ে ফাতেমাকে ও গামছা দিয়ে করিমের গলায় ফাঁস লাগিয়ে একটি আমগাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন। আজ সকাল ৯টার দিকে পৌর সদরের শ্রীপতিপুর গ্রামে নিহতের বাড়িসংলগ্ন পাঁচিলের পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রড উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই ভাইয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ গৃহবধূ ও যুবকের লাশ উদ্ধার করে। এটি আত্মহত্যা না হত্যা, তা নিয়ে পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। নিহত দুজনের বাবা দাবি করেছিলেন, তাঁদের সন্তানদের কে বা কারা হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছেন। গতকাল রাতে নিহত করিম পাড়ের বাবা জয়নাল পাড় কলারোয়া থানায় কারও নাম উল্লেখ না করে একটি হত্যা মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন