default-image

পরকীয়ার জেরে কুষ্টিয়ায় রনি ইসলাম (৩২) নামের এক যুবক হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের হায়দারের চর গ্রামের সজীব হোসেন (২৫) ও হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সীমা খাতুন (৩৮)। তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আদালত সূত্র জানায়, দৌলতপুরের তাজপুর গ্রামের নাহারুল ইসলামের ছেলে রনি ইসলাম ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সোনাইকুন্ডি বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর চরে বালিতে পুঁতে রাখা তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হলে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে একই গ্রামের প্রবাসী আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সীমা খাতুনের সঙ্গে রনি ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে সীমা কৌশলে রনিকে উদয়নগর চরে ডেকে নিয়ে সজীব হোসেনের সহায়তায় তাঁকে হত্যা করে লাশ চরের বালিতে পুঁতে রাখেন।

বিজ্ঞাপন
মামলার মূল পরিকল্পনাকারী সীমা। তিনি একজন নারী, তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে দুই বছর ছয় মাসের বেশি সময় হাজতবাস করছেন তিনি। এসব বিষয় বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তৎকালীন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারা খান মামলাটি তদন্ত করে সজীব ও সীমাকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছর ১৫ জানুয়ারি হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হলে ১৫ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিচারক এ রায় দেন।

বিজ্ঞাপন

রায়ে আদালত বলেন, মামলার মূল পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রকারী সীমা। তিনি একজন নারী, তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে দুই বছর ছয় মাসের বেশি সময় হাজতবাস করছেন তিনি। এসব বিষয় বিবেচনা করে সীমার প্রতি নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। যেহেতু মূল পরিকল্পনাকারীকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, সেহেতু বাস্তবায়নকারীকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0