বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নগরের ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের উদ্যোগে এই ম্যুরাল বসানো হয়েছে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে দিয়ে এই ‘চট্টল গৌরব’ নামের এই ম্যুরালগুলোর উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনের সময় দেয়ালে লাগানো নামফলকে লেখা হয়েছে, ‘পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ’। এ ছাড়া কৃতজ্ঞতা হিসেবে চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনু ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুমকি সেনগুপ্তের নামফলকে রয়েছে।
৩১ বিশিষ্ট ব্যক্তির এই ম্যুরাল স্থাপনের দায়িত্ব ছিল ভাস্কর প্রণব সরকারের ওপর।

এখানে বিপ্লবী কল্পনা দত্ত, বিনোদ বিহারী চৌধুরী, পূর্ণেন্দু দস্তিদার, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, সাহিত্যিক আবুল ফজল, কাজেম আলী মাস্টার, রাজনীতিবিদ এম এ হান্নানসহ ৩১ জনের ম্যুরাল রাখা হয়। মূলত চট্টগ্রামের ব্যক্তিত্বদের ম্যুরাল স্থাপন করা হয়। তবে চট্টগ্রামের না হলেও কলেজ ও স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিনের ম্যুরাল সেখানে স্থান পেয়েছে।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কীর্তিমান হিসেবে নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরীকে স্থান দেওয়া হয়। তবে তাঁর জায়গায় সাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরীর ম্যুরাল বসিয়ে নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরীর পরিচয় তুলে ধরা হয়। তাতে লেখা হয়, ‘১৯১৯ সালে সাতকানিয়ায় জন্মগ্রহণকারী বুলবুল চৌধুরী একজন প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী। ১৯৫৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্মরণে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়।’
অন্যদিকে সাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী ১৯৪৮ সালে গাজীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২১ সালে তিনি মারা যান।

এ ধরনের একটি ভুল নিয়ে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সচেতন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কবি মনিরুল মনির বলেন, কাউকে সম্মানিত করতে গেলে প্রথমে তাঁর সম্পর্কে জানা–বোঝার দরকার রয়েছে। তা নিয়ে পড়ালেখারও প্রয়োজন রয়েছে। ওই ব্যক্তিকে চেনে ও রকম লোকজনকে দেখিয়ে ম্যুরাল স্থাপন করা দরকার ছিল। এখানে উল্টো দুই বিশিষ্টজনকে অসম্মানিত করা হলো।

কবি রুদ্র অনির্বাণ ফেসবুক পোস্ট দিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘গণপরিসরের জন্য এ ধরনের কাজ করার আগে এ বিষয়ে জানেন এমন কাউকে কি ছবিটা দেখিয়ে নেননি কর্তৃপক্ষ? চট্টগ্রামে এত দিনেও কারও চোখে পড়ল না এটা!’

এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ বলেন, ‘নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরীর জায়গায় আরেকজনের ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। কাউকে হেয় করার জন্য এটা করা হয়নি। আমরা সংশোধন করে নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরীর ম্যুরাল বসানোর জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে তা হয়ে যাবে আশা করি।’

এ দিকে ম্যুরাল স্থাপনের পর চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ম্যুরাল না থাকার প্রতিবাদ জানিয়েছে একটি পক্ষ। প্রতিবাদস্বরূপ মহসীন কলেজের ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা ৩১ ব্যক্তির ম্যুরালের পাশে মহিউদ্দিন চৌধুরীর একটি ছবি সাঁটিয়ে দিয়েছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন