বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপার কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। আলাদা করে ছিল না হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা। শিক্ষার্থী অনুপাতে শ্রেণিকক্ষ–সংকটের কারণে যথেষ্ট শারীরিক দূরত্ব রেখে পাঠদান সম্ভব হয়নি এখানে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে দেখা গেছে, এমবিবিএস প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পাঠদান কার্যক্রম চলছে সেখানে। এ বছর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া এমবিবিএস প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের অভিভাবকেরাও কলেজে এসেছেন। তাঁরা কেউ কলেজ ক্যাম্পাসে, কেউ কলেজের বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে সন্তানের পাঠদান বিষয়ে নানা তথ্য জেনে নিচ্ছেন। তবে ফটকে তাপমাত্রা মাপা ও হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

default-image

কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের বারান্দায় কথা হয় এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিনথিয়া তানজিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে টানা দেড় বছর কলেজ বন্ধ। অনলাইনে কিছু ক্লাস হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিদ্যা অনেকটা কঠিন বিষয়। মানবদেহের অর্গানের নানা খুঁটিনাটিসহ অনেক কিছু ব্যবহারিক ক্লাসে শিখতে হয়। সেই অর্থে দেড় বছরে কিছুই শেখা হয়নি। পরীক্ষা কবে হবে, তা নিয়ে হতাশ ছিলাম। এখন কলেজ খুলে দেওয়ায় হতাশা কেটেছে।’ দ্বিতীয় বর্ষের মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের ১৭ মার্চ কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। দেড় বছর পর আজ কলেজে ফেরা। আমরা সবাই খুব আনন্দিত।’

দুপুরে কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে পালাক্রমে এমবিবিএস প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস চলতে দেখা গেল। একটি ক্লাসে শিক্ষার্থী ৪০ থেকে ৪৫ জন। প্রতিটি শিক্ষার্থী টুল নিয়ে বসেছেন। সেখানে সংরক্ষিত একটি মানবদেহ ঘিরে বেশ কিছু শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তবে কিছুটা উপেক্ষিত ছিল শারীরিক দূরত্ব মেনে পাঠদানের বিষয়টি।

অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান জেসমিন সুলতানা বলেন, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৪। এর মধ্যে বিদেশি চার শিক্ষার্থী এখনো এসে পৌঁছায়নি। বাকি ১৮০ জনের মধ্যে প্রথম দিনই পাঠদানে ১৭৭ জন উপস্থিত। কলেজে শ্রেণিকক্ষের সংকট আছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের চারটি গ্রুপে ভাগ করে চলছে পাঠদান। প্রতিটি গ্রুপে ৪৫ জন। শ্রেণিকক্ষের পরিধি বড়। শারীরিক দূরত্ব মেনে টিউটোরিয়াল ক্লাস সম্ভব হলেও ব্যবহারিক ক্লাসে তা শতভাগ মানা সম্ভব হচ্ছে না।

default-image

জানতে চাইলে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজর অধ্যক্ষ অধ্যাপক রেজাউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এমবিবিএস প্রথম বর্ষে চারজন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ভর্তি হয়েছেন ১৮৪ জন। প্রথম দিনেই ক্লাসে উপস্থিত হয়েছেন ১৭৭ জন। অন্যদিকে দ্বিতীয় বর্ষে দুজন বিদেশিসহ ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছেন। প্রতিটি বিভাগে তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদানের বিষয়টি মঙ্গলবার থেকে কড়াকড়িভাবে তদারকি করা হবে।

তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদানে বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ যেন কিছুটা এগিয়ে ছিল। সেখানে ফটকে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে কলেজে প্রবেশ করতে হয়েছে। ছিল স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও।

কলেজের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) সজীবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দেড় বছর পর কলেজ খোলার প্রথম দিনে এমবিবিএস প্রথম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম বর্ষ এবং বিডিএস কোর্সের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া ভারত ও নেপালের ৬৫ শিক্ষার্থী এখনো পৌঁছায়নি। তবে বাকি ৮৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ জন, দ্বিতীয় বর্ষে ১৪৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৩০ জন এবং বিডিএস শ্রেণির ৫০ জনের মধ্যে ২০ জন উপস্থিত হয়েছেন।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী পল্লব শীল বলেন, ‘দেড় মাস আগে কলেজে ভর্তি হয়েছি। প্রথম দিনে কলেজে পা রাখার অন্য রকম এক অনুভূতি। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ফাঁকে চলেছে পরিচয়, মুঠোফোনে সেলফি আর নতুন সহপাঠীদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন