মো. হারিছ মিয়া ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। হারিছ কোনো নির্দিষ্ট পেশার সঙ্গে জড়িত নন। কখনো নদী থেকে বালু তোলার কাজ, কখনো কৃষিকাজ আবার কখনো রাজমিস্ত্রির কাজ করেন তিনি। নান্দাইল, ময়মনসিংহসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে হারিছ মিয়া কাজ করতেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে হারিছের বড় ভাই মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ঈদের পর গত রোববার কাজের খোঁজে হারিছ কুমিল্লা যাচ্ছিলেন। তিনি লোকমুখে শুনেছেন, আখাউড়া রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির সময় ‌হারিছ বগি থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ান। বিরতি শেষে ট্রেন চলতে শুরু করলে হারিছ ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে নিচে পড়ে যান।

ট্রেন চলে যাওয়ার পর প্ল্যাটফর্মে থাকা লোকজন দেখতে পান হাত ও পা কাটা অবস্থায় হারিছ রেললাইনে ওপর ছটফট করছেন। খবর পেয়ে রেল পুলিশের একটি দল সেখানে ছুটে যায়। হারিছকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে তাঁকে আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হারুন অর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে তিনি ব্রাহ্মবাড়িয়া হাসপাতালে দেখেন, তাঁর ভাইয়ের হাত ও পা দেহ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে হারিছকে জাতীয় অর্থোপেডিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপতাল) নিয়ে ভর্তি করান। সেখার চিকিৎসা চলার সময় হারিছের ডান হাত ও ডান পা কাটা পড়েছে।

স্ত্রী তামান্না আক্তারও হাসপাতালে ছুটে গেছেন স্বামীকে দেখার জন্য। তবে স্বামীকে এ অবস্থায় দেখে তিনি নির্বাক হয়ে পড়েছেন। স্বামীর চিকিৎসার খরচ, সংসার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। কান্না ছাড়া তাঁর মুখে কোনো কথা নেই। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে তাঁর বাবার ব্যান্ডেজে মোড়ানো শরীর দেখে ভয়ে কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। সহৃদয়বান ব্যক্তিদের সহায়তা ছাড়া এই বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারব না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন