পরিবার খুঁজছে চারটি শিশু

বিজ্ঞাপন

খেলতে খেলতে ট্রেনে চড়ে বসে চার শিশু। মেতে ওঠে হাসি-আনন্দে। এর মধ্যেই গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেয় ট্রেনটি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে গভীর হতে থাকে রাত। ট্রেন থেকে নামতে না পেরে কান্না শুরু করে তারা। বিষয়টি লক্ষ করেন এক যাত্রী। শেষ পর্যন্ত তাঁর সহযোগিতায় উদ্ধার হয় ওই চার শিশু।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে পথ হারানো ওই চার শিশুর দেখা মেলে পাবনার ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে। পরে তাদের রেলওয়ে থানায় আনা হয়। নিজের ও মা–বাবার নাম বলতে পারলেও ঠিকানা বলতে পারছে না শিশুরা। তবে তারা পরিবারে ফিরতে চাইছে।
আজ বুধবার বিকেলে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তার সহযোগিতায় তাদের রাজশাহীর শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
ওই শিশুরা হলো রোহান হোসেন (১১), রানা হোসেন (১০), রিফাত আলী (১০) ও জুবায়ের হোসেন (৯)।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

রেলওয়ে পুলিশ ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, চিলহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১০টার দিকে নাটোর স্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় চারটি শিশু ট্রেনের যাত্রীদের চোখে পড়ে। চারজনই ট্রেনের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করছিল। একপর্যায়ে তারা কান্নাকাটি শুরু করে। বিষয়টি চোখে পরে সাদ্দাম হোসেন নামের ঈশ্বরদী উপজেলা সদরের এক বাসিন্দার। তিনি চার শিশুর কাছে তাদের পরিচয় জানতে চান। কিন্তু শিশুরা কিছুই বলতে পারছিল না। পরে সাদ্দাম হোসেন চার শিশুকে নিয়ে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে নেমে রেলওয়ে পুলিশে খবর দেন। রাত সোয়া ১১টার দিকে রেলওয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে শিশুরা নাম বলতে পারলেও ঠিকানা বলতে না পারায় জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়। আজ দুপুরে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার পল্লব ইবনে শায়েখ চার শিশুকে থানা থেকে জেলা সদরে নিয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ করলে ট্রেন থেকে শিশুদের উদ্ধার করা যাত্রী সাদ্দাম হোসেন বলেন, নাটোর স্টেশনে ট্রেনটি থামার পর তিনি চার শিশুকে দেখতে পান। তারা দৌড়ে এসে ট্রেনে উঠেছিল। তবে তারা আগে থেকেই ট্রেনে ছিল নাকি নাটোর থেকে উঠেছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার পল্লব ইবনে শায়েখ জানান, চার শিশুই খুব চঞ্চল। তারা কখনো হাসছে, কখনো কাঁদছে। নিজের নাম ও মা–বাবার নাম বলতে পারলেও ঠিকানা বলতে পারছে না। ফলে এই শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বিষয়টি রাজশাহীর শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে জানানো হয়েছিল। পুনর্বাসন কেন্দ্র তাদের গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে শিশুগুলোকে জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিকেলে তাদের রাজশাহীতে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পল্লব ইবনে শায়েখ প্রথম আলোকে বলেন, চার শিশুর কথার মধ্যে বেশ চঞ্চলতা রয়েছে। তারা মাঝেমধ্যে ট্রেনে ভ্রমণ করে বলে জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারজনই ছিন্নমূল শিশু। তাদের পরিবারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পরিবার খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত শিশুগুলো রাজশাহীর শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রেই থাকবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন