default-image

রাজশাহীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) একজন পরিবেশকের স্ত্রীর দোকানে টিসিবির পণ্য পাওয়া গেছে। এসব পণ্য খোলাবাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রির কথা ছিল। ওই পরিবেশকের নাম মোস্তাক আহমেদ ওরফে কাজল। নগরের রেশমপট্টি এলাকায় তাঁর বাড়ি। তাঁর বাড়ির সঙ্গেই মুদিদোকানটি। সেটি তাঁর স্ত্রী চালান। এ দোকানে ও বাড়িতে পাওয়া গেছে টিসিবির পণ্য।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় পরিবেশক মোস্তাক আহমেদের বাড়ি ও দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে ১ হাজার ৫২০ লিটার সয়াবিন তেল, ৩৫০ কেজি চিনি, ৩০০ কেজি মসুর ডাল এবং ২০০ কেজি ছোলা জব্দ করা হয়।

পরিবেশকের স্ত্রীর দোকানে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫২০ লিটার সয়াবিন তেল, ৩৫০ কেজি চিনি, ৩০০ কেজি মসুর ডাল এবং ২০০ কেজি ছোলা জব্দ করা হয়।

অভিযানকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ জানান, টিসিবির পণ্য ট্রাকে করে বিক্রি না করে এখানে মজুত করে রাখা হয়েছিল। নিজেদের দোকানে এসব পণ্য বেশি দামে বিক্রি করা হতো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা বাড়ি ও দোকানে অভিযান চালান। হাসান-আল-মারুফ জানান, টিসিবির পণ্যগুলো তাঁরা জব্দ করেছেন। তবে মোস্তাককে আটক করা হয়নি। শুনানির জন্য তাঁকে নোটিশ করা হবে। শুনানির দিন তিনি এসব মালামালের কাগজপত্র দেখাবেন। যদি তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অভিযানকালে টিসিবির পরিবেশক মোস্তাক আহমেদ দাবি করেন, তিনি টিসিবির পরিবেশক হলেও এগুলো তাঁর অনুকূলে বরাদ্দ করা পণ্য নয়। নগরের জাহাজঘাট এলাকার সাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তাঁকে এসব পণ্য দিয়েছেন। সাইদুল মাঝেমধ্যেই তাঁকে পণ্য দিতেন। তিনি কম দামে কিনে বিক্রি করতেন। মোস্তাক বলেন, সাইদুল একজন দালাল। তিনি এসবই করেন। মোস্তাক সাইদুলের একটি মুঠোফোন নম্বরও দেন। সেই নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও কেউ ধরেননি।

বিজ্ঞাপন

টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান রবিউল মোর্শেদ বলেন, অভিযানের খবর তিনি পেয়েছেন। তিনি মোস্তাককে আটকের জন্য ভোক্তা অধিকারকে বলেছেন। সাইদুল ইসলামের পরিচয় জানতে চাইলে রবিউল মোর্শেদ বলেন, সাইদুল নামে একজন আছেন। তিনি ট্রাকের দালাল। ডিলারদের ট্রাক সরবরাহ করেন। তিনি জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

মোস্তাককে এসব মালামাল সাইদুল দিয়েছেন, নাকি তিনি নিজেই রেখে দিয়েছেন, তা জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে হবে। কারণ, মোস্তাক নিজেই একজন টিসিবির পরিবেশক। ট্রাকে করে বিক্রির জন্য আট দিন আগে তাঁকে সব মালামাল দেওয়া হয়েছে। খোলাবাজারে বিক্রি করলে এত দিন পর এত বেশি পণ্য তাঁর বাড়িতে থাকার কথা নয়। তিনি অনৈতিক পন্থায় এসব পণ্য রেখেছেন।
রবিউল মোর্শেদ, টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান

রবিউল মোর্শেদ বলেন, মোস্তাককে এসব মালামাল সাইদুল দিয়েছেন, নাকি তিনি নিজেই রেখে দিয়েছেন, তা জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে হবে। কারণ, মোস্তাক নিজেই একজন টিসিবির পরিবেশক। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ‘আলী ট্রেডার্স’। ট্রাকে করে বিক্রির জন্য আট দিন আগে তাঁকে সব মালামাল দেওয়া হয়েছে। খোলাবাজারে বিক্রি করলে এত দিন পর এত বেশি পণ্য তাঁর বাড়িতে থাকার কথা নয়। তিনি অনৈতিক পন্থায় এসব পণ্য রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিতে হবে। তাহলে তাঁর সঙ্গে আর কে জড়িত তা বেরিয়ে আসবে।

এদিকে ভোক্তারা সকাল থেকেই রাজশাহী শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে টিসিবির পণ্য কেনার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে টিসিবির পণ্য নিয়ে ট্রাক আসার কথা থাকলেও অধিকাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে ট্রাক আসে অনেক পরে। ক্রেতারা দীর্ঘক্ষণ রোদের মধ্যে সারিতে দাঁড়িয়ে থাকেন অথবা নিজের জায়গা ধরে রাখার জন্য ব্যাগ রেখে তার ওপর একটি ইটের টুকরা রেখে দেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক পরিবেশক পণ্য শেষ না হতেই ট্রাক নিয়ে চলে যান। গত কয়েক দিন আগে রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর বিক্রয়কেন্দ্রে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধানকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তিনি জানান, ওই পরিবেশককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর লাইসেন্স বাতিল করার জন্য লেখা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন