default-image

বাসযোগ্য পরিবেশের স্বার্থে ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে পাট ও চটের ব্যাগ ব্যবহার করার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘পলিথিন ব্যাগের বহুল ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করেছে। এ জন্য পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে দেশি উদ্ভাবকেরা এগিয়ে এলে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’

শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী সেখানে ‘কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়ে হেলথ ক্যাম্প-২০২০’ এবং প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. তাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমেদ, বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শামসুন্নাহার বেগম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ, বড়লেখা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শাহিদা আক্তার, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
default-image

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সারা দেশে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বিভিন্ন ধরনের জনস্বার্থমূলক জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে বড়লেখা পৌর এলাকায় সৌরবাতি স্থাপনের লক্ষ্যে ২ কোটি টাকা এবং জুড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন বাজার আলোকিত করার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সব অসহায়, দুস্থ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। বড়লেখা উপজেলায় প্রায় ২৬ হাজার পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে ‘কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল’ কর্মসূচির আওতায় ৪৭৫ জন নারীর মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী এবং সাতজন নারীর মধ্যে ১৫ হাজার টাকা করে ক্ষুদ্রঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া রবি মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সরিষা, সূর্যমুখী, বোরো, গম, ভুট্টা, চিনাবাদাম ও গ্রীষ্মকালীন মুগ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮৭০ জন কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমি চাষের উপকরণ পাবেন। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া পরিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ক্রীড়াসামগ্রীও বিতরণ করা হয়। এর আগে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিবেশ মন্ত্রী।

মন্তব্য পড়ুন 0