default-image

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পরীক্ষার খাতা দেখতে না দেওয়ার জেরে ১৪ এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে অপর এক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রের মাঠ ও কেন্দ্র–সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় এক পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কুঠিরহাট উচ্চবিদ্যালয় ও হরখালী মুজিবুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ওই মারপিট হয়।

লাঠিসোঁটার আঘাতে আহত ১৪ পরীক্ষার্থী হলো সুখী আক্তার, জাকারিয়া ইসলাম, সোহাগ মিয়া, নাহিদ হাসান, শরীফুল ইসলাম, হৃদয় হাসান, শারমিন আক্তার, ঝিনুক আক্তার, রুপা আক্তার, হাজেরা আক্তার, সুবর্ণা আক্তার, মিনহাজ মিয়া, সোহেল রানা ও নাবিক হাসান। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই কুঠিরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে জাকারিয়া ইসলামের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আহত পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, আজ ছিল এসএসসির গণিত পরীক্ষা। কুঠিরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী সোহাগ মিয়া ও হরখালী মুজিবুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ইয়াছিন মিয়া এক বেঞ্চে পাশাপাশি বসে পরীক্ষা দিয়ে আসছিল। আজ পরীক্ষার খাতা দেখতে চাইলে সোহাগ মিয়া ইয়াছিন মিয়াকে তা দেখতে নিষেধ করে। এ নিয়ে দুই পরীক্ষার্থীর মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধে। পরীক্ষা শেষে ইয়াছিন মিয়া কক্ষের বাইরে সোহাগ মিয়াকে ধাওয়া করে। একই সময় পরীক্ষাকেন্দ্রের মাঠে হরখালী মুজিবুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা কুঠিরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। পরে পরীক্ষাকেন্দ্রের ফটকের সামনে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এরপর অটোভ্যানে করে যাওয়ার সময় পথে চাপারকোনা গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে এই পরীক্ষার্থীদের মারপিট করে অভিযুক্ত পক্ষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাহেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ওই ১৪ পরীক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের লাঠিপেটার জখম রয়েছে। ১২ জনকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। আগামীকাল তাদের পরীক্ষা রয়েছে। রাত ১২টার মধ্যে তাদের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

আহত পরীক্ষার্থী সুখী আক্তার বলে, ‘পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে কেন্দ্রের পাশে অটোভ্যান থেকে নামিয়ে আমাকে পেটানো হয়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’

কুঠিরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী সোহাগ মিয়া বলে, ‘গণিত পরীক্ষায় ইয়াছিনকে খাতা দেখতে নিষেধ করি। পরীক্ষা শেষে কক্ষ থেকে বের হলে আমাকে ধাওয়া করা হয়। বাড়ি যাওয়ার পথে আমাদের মারধর করা হয়েছে।’

কুঠিরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী জাকারিয়া ইসলাম বলে, ‘মারামারির সময় হরখালী মুজিবুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা আমার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। আগামীকাল (বুধবার) প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছাড়া কীভাবে পরীক্ষা দেব, চিন্তায় আছি।’

কুঠিরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল জলিল বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের এক পরীক্ষার্থী খাতা না দেখানোর অভিযোগে ১৪ পরীক্ষার্থীকে হরখালী মুজিবুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা পিটিয়ে আহত করেছে।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পক্ষের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে হরখালী মুজিবুর রহমান উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামছুল ইসলাম বলেন, দুই বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে। তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দায়ী হলে তাদের বিচার করা হবে।

চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে শুনছি।’ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, পরীক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, আহত পরীক্ষার্থীদের হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন