বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অন্য পর্যটনকেন্দ্রের মতো সাদা পাথরে পর্যটক যাওয়া বন্ধ রয়েছে। সেই থেকে পর্যটকহীন গোটা এলাকা। বন্ধ রয়েছে পাথর ও বালু উত্তোলন। নতুন পাথর সংরক্ষিত রাখতে যাতায়াত পুরোপুরি নিষিদ্ধ রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে করোনাকালে পর্যটকহীন সাদা পাথর রূপ মেলে ধরেছে নিজের মতো করে। যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ!

গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে ঈদুল ফিতরেও পর্যটকদের পা পড়েনি সেখানে। ঈদুল আজহায় পর্যটকদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এ বছর স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা হলেও পরে একই পরিস্থিতিতে পর্যটক আসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, সুনসান ১০ নম্বর ঘাট। সেখানে অলস পড়ে আছে পর্যটকবাহী সারি সারি নৌকা। নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় ঢেউহীন নদীর পানি টলমল করছে। ঘাট লাগোয়া দোকানপাট, রেস্তোরাঁগুলোয় তালা ঝুলছে। মানুষের আনাগোনা না থাকায় বিপাকে সেখানকার পর্যটননির্ভর মানুষ।

ঘাট ইজারাদার দিলোয়ার মাহমুদ বলেন, ‘এই মহামারিতে আমরা মহাবিপাকে আছি। পর্যটক আনা-নেওয়ার জন্য ৪০০ নৌকা বন্ধ আছে। এসব নৌকার আট শতাধিক মাঝি এখন বেকার। কবে খুলে দেওয়া হবে পর্যটনকেন্দ্র, তা–ও জানি না।’ তবে মহামারি কেটে গেলে হয়তো আবার পর্যটকদের পদচারণে মুখর হবে সাদা পাথর, সেই আশা তাঁর।

default-image

সাদা পাথর এলাকায় আগত পর্যটকদের বেড়ানোর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করেন ‘কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির’ ৫০ জনের বেশি তরুণ আলোকচিত্রী। সংগঠনের সহসভাপতি আলোকচিত্রী আনোয়ার সুমন বলেন, ‘আমরাও পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। সাদা পাথরে পর্যটক না আসায় আমাদের ক্যামেরা এখন বাক্সবন্দী। এভাবে আর কিছুদিন গেলে ক্যামেরা বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই।’

পাথর আছে, পানি আছে। নেই শুধু ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের আনাগোনা। পাথররাজ্য এখন পুরো জনমানবহীন। করোনার সংক্রমণের শুরু থেকে পর্যটকদের আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন আচর্য বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ। পরবর্তী নির্দেশ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন