রামুর সৌন্দর্য

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে পড়ে রামু। সড়কের দুই পাশে সুদৃশ্য রাবার বাগান। পাহাড়চূড়ায় রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যায় শায়িত গৌতম বুদ্ধের মূর্তি, দৃষ্টিনন্দন রামু কেন্দ্রীয় মহাসীমা বিহার, বৌদ্ধজাদি, ক্যাং, রাংকোট বনাশ্রম, তীর্থধাম, জগৎজ্যোতি শিশু সদন, আইসোলেটেড নারিকেলবাগান, সম্রাট শাহ সুজা সড়ক। শুধু রামুতেই রয়েছে ২২টির বেশি বৌদ্ধ মন্দির।

default-image

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

শহর থেকে ৬৭ কিলোমিটার দূরে চকরিয়ার ডুলাহাজারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। ২০০১ সালের ১৯ জানুয়ারি ২ হাজার ২৫০ একর বনাঞ্চলে গড়ে তোলা হয় দেশের প্রথম এই সাফারি পার্ক। এর আগে ১৯৮০ সালে এটি ছিল হরিণ প্রজননকেন্দ্র। বর্তমানে পার্কে আছে জেব্রা, ওয়াইল্ড বিস্ট, জলহস্তী, ময়ূর, অজগর, কুমির, হাতি, বাঘ, ভালুক, সিংহ, হরিণ, লামচিতা, শকুন, কচ্ছপ, রাজধনেশ, কাকধনেশ, ইগল, সাদা বক, রঙিলা বক, সারস, কাস্তেচরা, মথুরা, নিশিবক, কানিবক, বনগরুসহ ৫২ প্রজাতির ৩৪১টি প্রাণী। এগুলো আবদ্ধ অবস্থায় আছে।

উন্মুক্তভাবে আছে ১২৩ প্রজাতির ১ হাজার ৬৫টি প্রাণী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুইসাপ, শজারু, বাগডাশ, মার্বেল ক্যাট, গোল্ডেন ক্যাট, ফিশিং ক্যাট, খ্যাঁকশিয়াল ও বনরুই। টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকতে হয়।

ঝরনাধারার হিমছড়ি

ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে বাসে নামতে হয় শহরের কলাতলী হাঙর ভাস্কর্য এলাকায়। এরপর আশপাশের হোটেল-মোটেলে উঠে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত হওয়া। কলাতলী মোড় থেকে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে টেকনাফের দিকে রওনা হলেই আপনার প্রাণ জুড়িয়ে যাবে সাগররানির উত্তাল রূপ দেখে।

১২ কিলোমিটার যাওয়ার পর সামনে পড়ে দরিয়ানগর পর্যটনপল্লি। পল্লির অভ্যন্তরে আগে ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক শাহেনশাহ গুহা, পাহাড়চূড়ার কবি টং, ঝুলন্ত সেতু ইত্যাদি। সেখান থেকে আরও সাত কিলোমিটার গেলে দৃষ্টিনন্দন হিমছড়ি ঝরনাধারা। ঝরনার শীতলজলে শরীর ভিজিয়ে পাকা সিঁড়ি বেয়ে ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড়চূড়ায় ওঠার ব্যবস্থাও আছে। পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের দিকে তাকালে বিশাল সাগরের সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে যে কাউকে।

বঙ্গোপসাগর ডিঙিয়ে আদিনাথ মন্দির

শহর থেকে স্পিডবোটে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে মহেশখালীতে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট। এরপর অটোরিকশায় যেতে হয় পাহাড়চূড়ার আদিনাথ মন্দিরে। আঁকাবাঁকা সিঁড়ি মাড়িয়ে মন্দিরে উঠতে হয়। পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে একনজরে পুরো মহেশখালী প্রত্যক্ষ করা যায়। পাহাড়ের নিচে রাখাইনপল্লি। বিচিত্র তাঁদের জীবন যাপন। মহেশখালীর গোরকঘাটায় রাখাইনপল্লি, বৌদ্ধবিহার, বার্মিজ মার্কেট ভ্রমণে যোগ করবে নতুন মাত্রা।

পাথুরে সৈকত ইনানী

হিমছড়ি ঝরনা থেকে দক্ষিণে আরও ২০ কিলোমিটার গেলে পাথুরে সৈকত ইনানী। কক্সবাজার সৈকতে বালু ছাড়া কিছু নেই। কিন্তু ইনানী সৈকতে পাথরের সারিবদ্ধ স্তূপ। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই পাথর স্তূপ পর্যটকদের পছন্দের।

ইনানী সৈকতে পর্যটকের রাতযাপনের বেশ কিছু হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ রয়েছে। ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা। ইনানীর আগে পড়ে বিদেশি পর্যটকদের পছন্দের জায়গা মারমেইড বিচ রিসোর্ট। আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন আবাসিক কটেজ ছাড়া এখানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি করা হয়েছে কাঁকড়া সৈকত, বিশ্বের সর্ববৃহৎ কচ্ছপ ভাস্কর্যসহ বিনোদনের নানা কেন্দ্র।

ইনানী সৈকতের পর পাটুয়ারটেক পাহাড়ের নিচে রয়েছে ৩০০ বছরের পুরোনো ‘কানা রাজার গুহা’। রাজার এক চোখ কানা ছিল বলে কানা রাজা। এই গুহার দৈর্ঘ্য কত, তা এখনো অজানা। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, গুহাটি কয়েক মাইল লম্বা হতে পারে।

default-image

প্রেমকাহিনির মাথিন কূপ

টেকনাফ মডেল থানা প্রাঙ্গণে রয়েছে শত বছরের ঐতিহাসিক মাথিন কূপ। মগ জমিদারের কন্যা মাথিনের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা ও সাহিত্যিক ধীরাজ ভট্টাচার্যের প্রেমকাহিনি নিয়ে এই কূপ। এখান থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বদিকে গেলে নাফ নদী, তারপর মিয়ানমার সীমান্ত। নাফ নদীর পাড়ে নেটং (দেবতার পাহাড়) পাহাড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক ব্রিটিশ বাংকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ সেনারা এই বাংকারে বসে মিয়ানমারে থাকা জাপান সেনাদের নজরদারি করতেন এবং কামানের গোলা ছুড়ে মারতেন। নাফ নদীর মধ্যভাগে দৃষ্টিনন্দন জালিয়ার দ্বীপ, উল্টোদিকের পাহাড়ে এলিফ্যান্ট পয়েন্ট, বৌদ্ধ মন্দির, পানের বরজ, নেচার পার্ক, হাতি খেদা, কুদুমগুহা মনকে পুলকিত করে তুলবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন