বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ বেলা ১১টায় সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা গেছে, এক কিলোমিটার সৈকতে পর্যটকের গিজগিজ অবস্থা। পর্যটকেরা উত্তাল সমুদ্রে নেমে নোনাজলে গা ভাসাচ্ছেন। নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর মঙ্গলবার থেকে উত্তাল হয়ে পড়েছে। গতকাল রাতে কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেও আজ বিকেল পর্যন্ত আকাশ মেঘলা ছিল। প্রচণ্ড গরমে মেঘলা আকাশ পর্যটকদের কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও ঝুঁকি নিয়ে সাগরে গোসলে নামায় লাইফগার্ডের কর্মীদের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেখা গেছে, লাইফগার্ডের কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে গোসলে নামতে নিষেধ করছেন। কারণ, সৈকতের কয়েকটি স্থানে গুপ্ত খালের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পর্যটকেরা নিষেধাজ্ঞা না মেনে সমুদ্রে ঝাঁপ দিচ্ছেন। কেউ দ্রুতগতির নৌযান জেডস্কি নিয়ে গভীর সাগর ঢুঁ মারছেন। টায়ার টিউবে গা ভাসিয়ে অনেকে বড় বড় ঢেউ অতিক্রম করার চেষ্টা করছেন। লাইফগার্ডের সীমিতসংখ্যক কর্মীর পক্ষে লাখো পর্যটককে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেখা গেছে, সিগাল, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টেও লাখো পর্যটকের মেলা বসেছে।নোনাজলে শরীর ভিজিয়ে পর্যটকেরা ছুটছেন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, টেকনাফ সমুদ্রসৈকত, নাফ নদীর মিয়ানমার সীমান্ত, ঐতিহাসিক মাথিন কূপ, উখিয়ার পাথুরে সৈকত, রামুর বৌদ্ধপল্লি, চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানে।

সমুদ্রে গোসলে নামা বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন সি সেফ নামে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের ২৬ জন লাইফগার্ডকর্মী। সি সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, আজ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কলাতলী, সুগন্ধা, সিগাল ও লাবণী পয়েন্টের চার কিলোমিটার সৈকতে নেমেছেন অন্তত দুই লাখ পর্যটক। এর মধ্যে অন্তত এক লাখ সমুদ্রে নেমে নোনাজলে শরীর ভিজিয়েছেন। কিন্তু বিপুলসংখ্যক লোকজনকে সামাল দিতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

default-image

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ঈদের ছুটির প্রথম তিন দিনে অন্তত পাঁচ লাখ পর্যটক সৈকত ভ্রমণে এসেছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও খাবার পানি সরবরাহ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। মাদকসেবী, ছিনতাকারীদের প্রতিরোধের পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবির থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আটকাতে হচ্ছে। গতকাল সৈকতসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৫৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে আজ বিকেল পর্যন্ত সৈকতে কোনো রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়নি।

কক্সবাজার শহর ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক নিয়ে শহরে ঢুকছে শত শত দূরপাল্লার যানবাহন। যানবাহনগুলো সড়কের দুই পাশে দাঁড় করিয়ে রাখায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশ ও হোটেলমালিক সূত্র জানায়, আজ ছোট–বড় অন্তত আট হাজার যানবাহনে অন্তত দেড় লাখ পর্যটক শহরে নেমেছেন। যানবাহনের কারণে বেলা তিনটার পর থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের রেজুব্রিজ (উখিয়া) এলাকায় দীর্ঘ সাত কিলোমিটার গাড়ির জট লেগেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট খোলেনি।

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এক দিনেই শহরে ঢুকেছে আট হাজারের বেশি গাড়ি। এর মধ্যে তিন হাজারের বেশি দূরপাল্লার বাস। বাসগুলো যাত্রীদের হোটেলে নামিয়ে দিয়ে সড়কের দুই পাশে দাঁড় করিয়ে রাখার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আগামীকাল শুক্রবার আরও কয়েক হাজার যানবাহনে পর্যটকেরা আসবেন।

পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়ে সৈকত ও আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঙা ভাব ফিরে এসেছে, জমছে ব্যবসা–বাণিজ্য। বিশেষ করে শুঁটকি ও শামুক–ঝিনুকের রকমারি পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। হোটেল মালিকেরা বলেন, ঈদের ছুটির সাত দিনে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।

ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ঈদের সাত দিনের ছুটিতে ১০ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে। পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসের ৯৭ শতাংশ কক্ষ বুকিং আছে। হোটেলগুলোতে ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৬০ হাজার। চাপ বেড়ে গেলে হোটেলকক্ষে পর্যটকদের গাদাগাদি করে রাখতে হয়। করোনায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবারের ঈদে হোটেলকক্ষ ভাড়ার বিপরীতে তেমন ছাড় বা রেয়াত দেওয়া হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সৈকতের পাশাপাশি শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রটদের মুঠোফোন নম্বর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন