default-image

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত বড়বিলা জলমহাল। সাড়ে ৩০০ একরের বেশি আয়তনের এ জলমহালে রয়েছে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। এ ছাড়া বর্ষাকালে ফোটে শাপলা ও পদ্ম। এতে আশপাশের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বড়বিলা বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

পর্যটনের নামে বিলের আশপাশ দখলের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া বিলের ইজারা নিয়েও সৃষ্টি হচ্ছে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে বিরোধ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তিন বছরের জন্য ৩৬ লাখ ১৫ হাজার টাকায় স্থানীয় আনুহাদী মৎসজীবী সমবায় সমিতির কাছে বড়বিলা ইজারা দেওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার বড়বিলায় গিয়ে কথা হয় আনুহাদী মৎসজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ও একাধিক সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাঁরা জানান, বড়বিলা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল ও ভালুকা এবং টাঙ্গাইলের সখীপুর, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলার মানুষের কাছে পরিচিত জলমহাল। আগে শুধু দেশীয় মাছের জন্য এ জলমহাল পরিচিত হলেও কয়েক বছর ধরে এখানে ফোটা পদ্ম ও শাপলা আশপাশের ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করছে।

ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা বাড়ার কারণেই বড়বিলায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মানুষ সেখানে রেস্টুরেন্ট তৈরি করার জন্য জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বড়বিলার গুদারাঘাট এলাকায় পানিতে ভাসমান রেস্টুরেন্ট তৈরি করার সরঞ্জামাদি রাখা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কিছু যুবক এ এলাকায় ভাসমান রেস্টুরেন্ট করার উদ্যোগ নেন। এ ছাড়া বড়বিলার সীমানা ঘেঁষে রাঙামাটিয়া গ্রামে স্থানীয় আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রেস্টুরেন্ট ও বিনোদনকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করছেন। ইতিমধ্যে সেখানে মাটি ভরাট করে কাপড়ের নিশানা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একটি চায়ের দোকান আছে। দোকানির নাম মফিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্ষায় এখানে ভাসমান রেস্টুরেন্টটি করা হতে পারে। তবে যেখানে রেস্টুরেন্টটি হবে, সেটি খাসজমি নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেস্টুরেন্ট করা হলে বেশির ভাগ অংশই জলমহালের ভেতর পড়বে। মফিদুল বলেন, তিনি পরিচালনা করবেন। তবে এ উদ্যোগের সঙ্গে এলাকার আরও তিনজন রয়েছেন।

ইউএনও আশরাফুল ছিদ্দিক বলেন, ‘বড়বিলায় একাধিক দখলের চেষ্টা আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করেছি। দখলের নতুন কোনো অভিযোগ পেলে আমরা সেটির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন