বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: লাখো পর্যটকে ভরপুর সৈকত। হোটেল–মোটেলের ব্যবসা কেমন যাচ্ছে?

আবুল কাশেম সিকদার: হোটেল–মোটেলের ব্যবসা গত বছরের চেয়ে ভালো যাচ্ছে। এবার ১৬ ডিসেম্বর এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক ২ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৩ লাখ পর্যটক এখানে এসেছেন। সৈকত এলাকার ৪৬৯টি হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউসের (নিবন্ধিত ৪২৬টি ও অনিবন্ধিত ৪৩টি) ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৬০ হাজারজন।

প্রথম আলো: হোটেলকক্ষে দেশি–বিদেশি নারী পযটক ধর্ষণের অভিযোগ আছে। আছে খুন ও মাদক ব্যবসার মতো অভিযোগও। নিরাপত্তাব্যবস্থা এমন কেন?

আবুল কাশেম সিকদার: হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসে হত্যা-ধর্ষণ হলে তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আমরা অধিকাংশ হোটেলে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি। কিন্তু সমিতির আওতাবহির্ভূত কিছু আবাসিক গেস্টহাউসের জন্য এসব নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। এখন থেকে হোটেলে–মোটেলে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। কক্ষভাড়ার তালিকা ও খাবারের দাম হোটেল–রেস্তোরাঁয় টাঙানো হয়েছে। যে নারী পর্যটককে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে, তিনি তিন মাস কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করেছেন। আমরা বলছি, পর্যটন এলাকায় ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও গণমাধ্যম তা ফলাও করে প্রচার করে। এতে পর্যটনশিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসা–বাণিজ্য।

প্রথম আলো: সংকটের অজুহাত দেখিয়ে হোটেলের কক্ষভাড়া তিন থেকে চার গুণ বেশি নেন। খাবারের দাম অনেক বেশি নেন...

আবুল কাশেম সিকদার: এ রকম কিছু অভিযোগ আমাদের কাছেও আসে, আসছে। যেসব হোটেল-রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেগুলোর কোনোটাই নিবন্ধিত নয়। সৈকত এলাকার হোটেল–মোটেল জোনের ভেতরে ৬ থেকে ১২ তলাবিশিষ্ট ৪৩টির বেশি ফ্ল্যাটবাড়ি আছে, যা আবাসিক আদলে নির্মিত। ফ্ল্যাটগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজনের কাছে বিক্রি করা হয়। পর্যটন মৌসুমে স্থানীয় ও বাইরের কিছু লোকজন ফ্ল্যাটবাড়িগুলো ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। তাঁরা ১ হাজার টাকার একটি কক্ষের ভাড়া ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। শুল্ক বিভাগের খাতায় ফ্ল্যাটবাড়িগুলোর নাম আছে কি না, সন্দেহ। গাড়ি থেকে নামলেই দালালের খপ্পরে পড়েন পর্যটকেরা। দালালেরা নানা প্রলোভন দিয়ে পর্যটকদের ওসব ফ্ল্যাটবাড়িতে নিয়ে যান। টমটম ও রিকশাচালকেরা ফ্ল্যাটবাড়িতে পর্যটক নিয়ে যান কমিশনের ভিত্তিতে। পর্যটনশিল্পের জন্য এটা অশনিসংকেত।

৬০ শতাংশের বেশি পর্যটক সমুদ্রসৈকতে নামেন সুগন্ধা পয়েন্ট দিয়ে। সুগন্ধার সড়কের দুই পাশে ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ ভাজা মাছ ও খাবার বিক্রির যেসব দোকান আছে, সেখানে চলে গলাকাটা বাণিজ্য। এগুলোর একটিও বৈধ নয়। সরকারি জায়গায় ভ্যানগাড়িতে বসে পচা-নষ্ট ও খাওয়ার অনুপযোগী মাছ রং মিশিয়ে ভেজে মানুষকে খাওয়াচ্ছে তারা। এসব দোকানে খাবারের মূল্যতালিকা থাকে না। ৩০ টাকার মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি করছে তারা। নিবন্ধিত রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের মূল্যতালিকা টানানো থাকে। মধ্যম মানের একটি রেস্তোরাঁয় ১৫০ টাকায় ভাজি, ভর্তা, মাছ, ডালসহ ৪–৫ পদ দিয়ে খাবার খাওয়া যায়। আর রূপচান্দা–মাংস দিয়ে ভাত খেলে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা লাগতে পারে। সৈকত এলাকায় নিবন্ধিত রেস্তোরাঁ আছে ১০৪টি।

প্রথম আলো: হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস নির্মাণের বিপরীতে আপনারা হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু এক যুগেও পর্যটকের জন্য নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা করতে পারলেন না। প্রতিবছর সমুদ্রে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু হচ্ছে…

আবুল কাশেম সিকদার: সমুদ্রে নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা আমাদের ওপর বর্তায় না। বিনিয়োগকারীরা এটা করতেও পারবে না। কারণ, পুরো সৈকতের মালিকানা সরকারের। সরকার আমাদের কাছ থেকে রাজস্ব পাচ্ছে। সে টাকায় সরকার কিংবা প্রশাসন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নেট কিংবা জাল দিয়ে সমুদ্রের কিছু অংশ ঘিরে নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা করে দিতে পারে।

প্রথম আলো: সুগন্ধা সৈকতের আশপাশের চার কিলোমিটারে লাখ লাখ পর্যটকে গিজগিজ করে। বাকি ১১৬ কিলোমিটার সৈকত অরক্ষিত। সেখানে কিছু করার নেই?

আবুল কাশেম সিকদার: আমরা বাকি ১১৬ কিলোমিটার সৈকতে পৃথক ১০টি ‘পর্যটন জোন’ তৈরির তাগিদ দিয়ে আসছি দুই বছর ধরে। হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি ৮৪ কিলোমিটারের দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভের এক পাশে উঁচু পাহাড় সারি, অন্য পাশে বঙ্গোপসাগর। এমন মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের দেখানো গেলে এই শিল্পের প্রসার ঘটবে। চার কিলোমিটারের গিজগিজ অবস্থা দূর হবে। বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। সোনাদিয়াকে ডে বিচ ঘোষণা করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন