বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সখীপুর সদর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঁচটি পদের চারটিই শূন্য। পদগুলো হচ্ছে চিকিৎসা কর্মকর্তা, উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক। পাঁচটি পদ থাকলেও সাইফুল আলম নামের ওই ফার্মাসিস্ট আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে পাঁচজনের দায়িত্ব একাই পালন করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র আরও জানায়, সদর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রতন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রেষণে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যোগ দেন। এক মাস পর উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা গুলশান আরা কনাও প্রেষণে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। প্রসূতি মায়েদের সেবাদানের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ পদে জ্যেষ্ঠ সেবিকা অঞ্জনা বালা নামের একজন নিয়োগ থাকলেও তিনিও প্রেষণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করেছেন। গত ছয় মাস আগে তিনিও বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। মৃত্যুর কারণে প্রায় ১০ বছর ধরে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়কের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে সাইফুল হাসপাতাল ঝাড়ু দেওয়াসহ একাই সব দায়িত্ব পালন করছেন। সাইফুল ফার্মাসিস্ট পদে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদেন।

সাইফুল বলেন, আইন অনুসারে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ফার্মাসিস্ট রোগীকে ওষুধ সরবরাহ করবেন। রোগীকে ওষুধ খাওয়ার নিয়ম বলে দেবেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বরাদ্দ করা ওষুধ তাঁর হেফাজতে সংরক্ষিত থাকবে। রোগী দেখা বা রোগীর ব্যবস্থাপত্র লেখা তাঁর এখতিয়ার–বহির্ভূত। হাসপাতাল ঝাড়ু দেওয়াও তাঁর কাজ নয়। অথচ তাঁকে এক সঙ্গে রোগীও দেখতে হচ্ছে, আলমারি খুলে ওষুধ দেওয়াসহ প্রতিদিন হাসপাতালের দুটি কক্ষ, বারান্দা ও চারপাশ ঝাড়ুও দিতে হচ্ছে। তিনি একা থাকায় কোনো ছুটিও নিতে পারছেন না। প্রতিদিন তাঁকে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগীকে সামাল দিতে হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় সরেজমিন দেখা যায়, রোগীর সমস্যার কথা শুনে ওষুধ দিচ্ছেন সাইফুল। তবে কোনো ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন না। মুখে মুখে ওষুধ খাওয়ার নিয়ম বলে দিচ্ছেন।

গড়গোবিন্দপুর গ্রামের শেফালী আক্তার নামের এক রোগী বলেন, এ হাসপাতালে কোনো টিকিটের ঝামেলা নেই। আসামাত্রই চিকিৎসক ঝটপট ওষুধ দিয়ে দেন।
জোবেদা নামের এক বয়স্ক নারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনু (এখানে) মহিলা চিকিৎসক না থাকুনে আমরা মহিলা গো গোপন রোগের কথা বলবার পারি না।’
আবদুস সালাম নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিৎসক না থাকায় বিস্তারিত রোগের বর্ণনা দিয়ে প্রেসক্রিপশন করে ওষুধ নিতে পারছি না।’
সাইফুল বলেন, ‘আইনত আমি ব্যবস্থাপত্র লিখতে পারি না। মুখে নিয়ম বলে দেওয়ায় অনেক বয়স্ক রোগী বাড়িতে গিয়ে ওষুধ খাওয়ার নিয়ম ভুলে যান।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। প্রশিক্ষণকালীন দায়িত্ব পালন করছেন শাহীনুর আলম নামের একজন চিকিৎসক। তিনি বলেন, ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকসংকট চলছে। এ বিষয়টি টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। ফার্মাসিস্ট সাইফুল একাই পাঁচজনের দায়িত্ব পালন করছেন। শিগগিরই এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন