বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ঢাকার শান্তিবাগ এলাকায় থ্রি–আই মার্চেন্ডাইজ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও ঠিকাদার মোকছেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুরের বাসিন্দা মোকছেদুল স্বাস্থ্য বিভাগের বহুল আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছোট ভাই।

মামলার বিবরণে বলা হয়, রংপুর মেডিকেল কলেজে ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার ক্রয়ে কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঠিকাদার প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আর্থিকভাবে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। কোনো রকম ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া চেয়ার ক্রয়ে সঠিক কোনো ক্রয় পরিকল্পনা, বাজারদর যাচাই, অফিশিয়াল প্রাক্কলন প্রস্তুত, দরপত্র ওপেনিং কমিটি ও কারিগরি মূল্যায়ন কমিটিও গঠন করা হয়নি। এতে পিপিআর ২০০৮-এর ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে সরকারি ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মামলায় আরও বলা হয়, কারিগরি মূল্যায়ন ছাড়া সাধারণভাবে দরপত্র কমিটি গঠন করে ২০১২ সালের ১৭ অক্টোবর কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুর রউফ নিজ ক্ষমতাবলে ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া থ্রি-আই মার্চেন্ডাইজকে ৫ কোটি ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকার কার্যাদেশ দেন। মোকছেদুল ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি চেয়ার সরবরাহ ও ওই দিনই সমুদয় টাকা দাবি করেন। ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে ৪ কোটি ৬০ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৫ টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করার সুপারিশ করেন অধ্যক্ষ। এর মধ্যে পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ক্রয়বাবদ ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়।

মামলায় এ-ও উল্লেখ করা হয়, একই সময়, অর্থাৎ ২০১২-১৩ অর্থবছরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনায় ৯০ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। অথচ রংপুর মেডিকেল কলেজে পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার ও পাঁচটি আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনায় ১ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বিল প্রদান করা হয়েছে। আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের মূল্য ১৭ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা। যার অর্থ, সরঞ্জামের অর্থ বাদে চেয়ারে মোট ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা বাড়তি তুলে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদকের প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য জানা গেছে।

মামলার বাদী রাকিবুল হায়াত প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই মামলার তদন্ত করা হয়েছে। অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অনিয়ম করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদুর রউফের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে দুদকের বিশেষ আদালতের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হারুন-উর-রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, মামলাটি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুরে দায়ের করা হয়েছে। এটি এখনো এ আদালতে আসেনি। এলে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ অপচয়ের যে অভিযোগ, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে এত দিন পর মামলা করা প্রসঙ্গে বাদী রাকিবুল হায়াত প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগের ওপর দীর্ঘ অনুসন্ধান ও এসব চেয়ারের বাজারদর যাচাই করার পর মামলা করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোকছেদুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন