বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হালদা নদীর স্বেচ্ছাসেবকেরা ওই স্থানে নদীর মাঝখানে ডলফিনটি মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে নৌ পুলিশে খবর দেন। উদ্ধার হওয়া ডলফিনটির শরীরের পিটে ক্ষতবিক্ষত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ডলফিনটির শরীরে পচন ধরেছে। এটি প্রায় ৫ ফুট লম্বা আর ওজন ১ মণ হতে পারে। সোমবার দুপুরে রামদাস মুন্সিরহাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ডলফিনটি নদীর পাশে মাটিচাপা দেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩১টি ডলফিন মরে ভেসে ওঠে হালদা ও এর শাখা খালে। এগুলোতে দু-একটি বাদ দিলে প্রায় সব মরা ডলফিনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করেছিল উদ্ধারকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একাধিক ডলফিন কেটে হত্যাও করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত (অতি বিপন্ন প্রজাতি) একটি জলজ প্রাণী এই ডলফিন। বিশ্বের বিভিন্ন নদীতে অতি বিপন্ন প্রজাতির ডলফিন আছে মাত্র ১ হাজার ১০০টি। এর মধ্যে শুধু হালদাতেই ছিল ১৭০টি। এর মধ্য থেকে গত চার বছরে মারা গেছে ৩১টি ডলফিন, যা খুবই উদ্বেগজনক মনে করছেন নদী ও জলজ প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নদীর স্বেচ্ছাসেবকেরা ওই স্থানে নদীর মাঝখানে ভাসতে দেখেন ডলফিনটি। পরে স্থানীয় নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে এটি মাটিচাপা দেওয়া হয়।

নদী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান মনজুরুল কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার হওয়া মৃত ডলফিনটি জালে আটকা পড়ে মারা যেতে পারে। নদীতে এখন ড্রেজার ও ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল বন্ধ আছে। কিসের আঘাতে ডলফিনটির মৃত্যু হলো, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ শাহিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ডলফিন ও হালদার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। কী কারণে ডলফিনগুলো মারা যাচ্ছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন