আইনুল হকের সভাপতিত্বে বেলা দুইটার দিকে সম্মেলনের প্রথম পর্ব শুরু হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাংসদ মো. জাহিদুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান।

দ্বিতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠনের জন্য সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের নাম আহ্বান করে জেলা কমিটি। সভাপতি পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান ও সহসভাপতি মনজুরুল আলম প্রার্থী হন। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হন জেলা বিএনপির সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুন নবী বিশ্বাস, নন্দুয়ার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল ওয়াদুদ বিন নুর ও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নুর নবী। আর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফাজ উদ্দিন, যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুল মজুমদার ও উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।

এক পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একক প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তাব দেয় জেলা বিএনপি। প্রস্তাব পেয়ে শুধু সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রত্যাশী মিজানুর রহমান নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু সেই পদে আরও দুজন প্রার্থী থেকে যায়। এ ছাড়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সমঝোতা না হওয়ায় কমিটি গঠন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে জেলা বিএনপি।

সম্মেলনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলমকে ডেকে সভাপতি পদ থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তখন মনজুরুল আলম ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং একপর্যায়ে সম্মেলনস্থল ছেড়ে চলে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক পদে সমঝোতা না হওয়ায় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেন। ফলে কোনো কমিটি গঠন ছাড়াই সম্মেলন শেষ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা অভিযোগ করেন, তৃণমূলে জনপ্রিয় নন, তবে জেলার নেতাদের পছন্দের লোককে নেতৃত্বে আনতেই কমিটি গঠন করা হয়নি। সম্মেলনের দিনই নতুন কমিটি হয়ে গেলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের আশঙ্কা কেটে যেত। আবদুল জব্বার নামের রাতোর ইউনিয়ন বিএনপির এক কর্মী বলেন, ‘বর্তমান কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তাঁরা গত পাঁচ বছর দল ভালো করে চালাতে পারেনি। পাঁচ বছর পরে আজ সম্মেলন হলো, কিন্তু আমরা নতুন কমিটি পেলাম না।’

সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সমঝোতা হলেও ওই দুই পদে নির্বাচিতদের নাম জেলা বিএনপি কেন ঘোষণা করল না, বুঝতে পারলাম না। তারা হয়তো দলের ভালোর জন্যই এটা করেছে।’

জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দ্বিতীয় অধিবেশনে এক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় নিজেদের মধ্যে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া হয়। এতে সভাপতি একক ও সাংগঠনিক সম্পাদক দুটি পদে দুজন প্রার্থী পেয়ে যাই। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে সমঝোতা হয়নি। অনেক কাউন্সিলর সম্মেলনস্থল ছেড়ে যাওয়ায় আমরা নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটের আয়োজনে যাইনি। শেষ পর্যন্ত সম্মেলন স্থগিত করতে বাধ্য হই।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন