বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৮ অক্টোবর সদর উপজেলার ভুল্লি এলাকার তিয়াস তিমু ফিলিং স্টেশনে অভিযানে ফিলিং স্টেশনটির ৮টি ডিসপেন্সিং ইউনিটেই ১০০ মিলিলিটার করে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওজনে কম দেওয়ায় ওই ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষকেও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

২৬ অক্টোবর সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকার মন এনার্জি স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন মো. শেখ সাদি। অভিযানে ৫ লিটার পেট্রলে ৩৭০ মিলিলিটার এবং ডিজেলে ২৭০ মিলিলিটার কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ফিলিং স্টেশনটির কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি। সে সময় মোটরসাইকেলে পেট্রল কিনতে আসা অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শী হিয়ার মধুপুর এলাকার যুবক শামীম হোসেন বলেন, তিনি মুঠোফোন বের করে হিসাব কষে কারসাজি করে মুনাফার একটি ধারণা পেয়েছেন। এই ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হয়। ৫ লিটারে ৩৭০ মিলিলিটার কম দেওয়া হলে লিটারে কম দেওয়া হচ্ছে ৭৪ মিলিলিটার। সেই হিসাবে মাপে কম দিয়ে পেট্রল থেকেই প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনটির মুনাফা সাড়ে ১২ হাজার টাকা।

গত ১০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলার নয়টি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করে পাঁচটিতেই অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

২৮ আগস্ট মা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের পরিমাপ পরীক্ষা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সে সময় ৫ লিটার ডিজেলে ১৭০ মিলিলিটার কম পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর গত ১ নভেম্বর আবারও ওই ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালান শেখ সাদি। এ দিনও পাঁচ লিটার ডিজেলে একই পরিমাণ কম দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ডিসপেন্সিং ইউনিট ঠিক না করে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় কর্তৃপক্ষকে আবার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী ফিলিং স্টেশনে কারচুপির বিষয়টি হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে গতকাল সোমবার সকালে শহরের সুরমা ফিলিং স্টেশনে পেট্রল কেনার সময় তরিকুল ইসলাম নামের এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘মিটার তো ঠিকঠাকই রিডিং দিচ্ছে। তাহলে কম দেওয়ার বিষয়টি বুঝব কেমন করে?’

স্থানীয় মন এনার্জি স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাহফুজার রহমান বলেন, মেশিনগুলো অনেক পুরোনো, তাই মাঝেমধ্যে সমস্যা করছে। এ কারণে মাপে কম যেতে পারে। তবে যন্ত্রের সমস্যার কারণে কখনো কি জ্বালানি তেল বেশি পেয়েছেন গ্রাহকেরা প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফিলিং স্টেশনের মালিক জানান, ফিলিং স্টেশনের ডিসপেন্সিং ইউনিটের ভেতরে একটি মিটার থাকে। যেটি আসলে ফ্লো–কন্ট্রোলিং ডিভাইস নামে পরিচিত। ডিসপেন্সিং ইউনিট স্থাপনের সময় ডিভাইসটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিএসটিআই। পরিমাপ ঠিকঠাক করে দিয়ে সেটাকে সিল করে দেওয়া হয়। তবে কেউ কেউ সেই সিল ভেঙে ফ্লো–কন্ট্রোলিং ডিভাইসটি নিজেদের মতো করে নিয়ে নতুন সিল লাগিয়ে দেন।

স্থানীয় এনামুল ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী এনামুল হকের দাবি, হাতে গোনা কয়েকটি পাম্প এমন কাজ করে। তবে অধিকাংশ পেট্রলপাম্পই সততার সঙ্গে ব্যবসা করছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, এর আগে গত অক্টোবর মাসে জেলায় ৮টি অভিযান চালিয়ে ২০টি প্রতিষ্ঠানকে ওজনে কারচুপি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করার অপরাধে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শেখ সাদি প্রথম আলোকে বলেন, বিএসটিআইয়ের সিল ভেঙে জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধে পরিমাপে কারচুপি করে ভোক্তাদের জ্বালানি তেল কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নয়টি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পাঁচটি স্টেশনে যন্ত্রে কারসাজি করে ওজনে কারচুপির সত্যতা মেলে। জ্বালানি তেলের ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি ফিলিং স্টেশনের মালিকদের নির্দেশেই হচ্ছে বলে তাঁদের মনে হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শেখ সাদি আরও বলেন, পেট্রল, ডিজেল ও অকটেন উদ্বায়ী, অর্থাৎ বাতাসে সহজেই মিশে যায়। তাই ৫ লিটার জ্বালানি তেলে ১৫ মিলিলিটার কম হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর চেয়ে কম হলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। তিনি আরও বলেন, বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের পরিমাপে কারসাজির প্রমাণ পেলেও কয়েকটির মাপে সঠিক মাত্রা পাওয়া গেছে। জরিমানা করা ফিলিং স্টেশনে আরও অভিযান চালানো হবে। না শোধরালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন