বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম দশ বছর ধরে ষাঁড় লালন–পালন করে আসছেন। এবার তিনি দেশি জাতের ১০টি ষাঁড় মোটাতাজা করেছেন। প্রতিদিন তাঁর খামারের গরুর পেছনে খইল, ভুসি, চালের কুড়া, খড় ক্রয় বাবদ প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া মজুরি খরচ এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও রোগ প্রতিরোধী ওষুধের পেছনেও অনেক খরচ রয়েছে। অন্যান্যবার এত দিনে পাইকার ও ব্যাপারীরা খামারে এসে গরু দেখে বায়না করে যান। এবার এখন পর্যন্ত পাইকার ও ব্যাপারীরা না আসায় চিন্তিত তিনি।

তারাকান্দা উপজেলার কামারিয় গ্রামের হানিফ মাহমুদ বলেন, কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য শাহীওয়াল ষাঁড় লালন করছেন। বর্তমানে একেকটি ষাঁড়ের ওজন ৩০০ কেজির ওপর। করোনার প্রভাবে গরুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কিত। কেননা অন্যান্য বছর ঈদের মাসখানেক আগেই পাইকারেরা এসে গরুর বায়না করে যান। ভালো দাম পাওয়া যাওয়ার পাশাপাশি গরু বিক্রি নিয়েও কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। কিন্তু এ বছর এখনো পাইকারের দেখা মেলেনি।

খামারি এবং চাষিদের গরু বিক্রি করার সহায়তা করতে উপজেলাভিত্তিক একটি করে দল গঠন করা হয়েছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু বিক্রিতে সহায়তা করবে।
ওয়াহেদুল আলম, মেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

ফুলপুরের রাকিবুল হাসান বলেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি বিধিনিষেধ আছে। ফলে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় পাইকারেরা আসতে পারছেন না। এ জন্য ঈদে আশানুরূপ দাম পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কিত। এর মধ্যে গোখাদ্যের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে দিন দিন। একটি খাবারের বস্তার দাম প্রায় ৮০০ টাকা, যা দিয়ে একটি গরুর ২০-২২ দিন চলে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় বলছে, ময়মনসিংহে এবার গরু–ছাগল ও ভেড়ার মজুত রয়েছে ৯ লাখ ১৭ হাজার। জেলায় নিবন্ধিত গরুর খামার ২ হাজার ৫৯৩টি এবং অনিবন্ধিত ৯ হাজার ৩৮৪টি। এর মধ্যে কোরবানির ঈদে গরুর চাহিদা ১ লাখ ১০ হাজার। উপযোগী গরু আছে ১ লাখ ২৫ হাজার। অর্থাৎ তাদের হিসাবেই ১৫ হাজার গরু অবিক্রীত থাকবে। ২০২০ সাল পর্যন্ত মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন, যার ৯৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল। এ বছরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওয়াহেদুল আলম বলেন, খামারি এবং চাষিদের গরু বিক্রি করার সহায়তা করতে উপজেলাভিত্তিক একটি করে দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল কোরবানি হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু বিক্রিতে সহায়তা করবে। বড় হাটগুলোয় নির্দিষ্ট বুথে প্রাণী চিকিৎসকেরা উপস্থিত থাকবেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রির জন্য খামারিদের তালিকা প্রস্তুত করে বিক্রয়যোগ্য প্রাণীর ছবিসহ তথ্য প্রদর্শন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এনামুল হক জানান, করোনার বিস্তার প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য একটি ওয়েবসাইট (www.qurbanihatmym.com) খোলা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত উপজেলাভিত্তিক এবং প্রাণীর ধরন অনুযায়ী এই ওয়েবসাইটে প্রায় ১৬ হাজার বিক্রয়যোগ্য প্রাণীর বিস্তারিত তথ্য ও ছবি তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ক্রেতা ঘরে বসে বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে পশু কিনতে পারবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন