default-image

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় এক নারী পোশাকশ্রমিক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ওই দিন রাতেই অভিযান চালিয়ে এক ইউপি সদস্যসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন উপজেলার ধরঞ্জি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সোহাবুল ইসলাম (৪৫) ও তাঁর সহযোগী জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দুদু মিয়া (৩২)।

জাহিদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে ইউপি সদস্য সোহাবুল ওই নারীকে পাঁচবিবিতে আসতে বলেন। এরপর গত সোমবার রাত নয়টায় দিকে তিনি ঢাকা থেকে পাঁচবিবি বাস টার্মিনালে এসে নামেন।

থানা-পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। প্রায় ছয় মাস আগে ওই নারীর সঙ্গে পাঁচবিবি উপজেলার নন্দাইল গ্রামের জাহিদ হোসেনের পরিচয় হয়। বিভিন্ন অজুহাতে জাহিদ হোসেন তাঁর কাছে টাকা ধার নেন। এরপর থেকে জাহিদ হোসেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তিনি জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে ধরঞ্জি ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহাবুলের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁকে অভিযোগ করেন। এরপর থেকে ইউপি সদস্য সোহাবুলের সঙ্গে এ বিষয়ে মুঠোফোনে তাঁর প্রায়ই কথা হয়। জাহিদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে ইউপি সদস্য সোহাবুল তাঁকে পাঁচবিবিতে আসতে বলেন। এরপর গত সোমবার রাত নয়টায় দিকে তিনি ঢাকা থেকে পাঁচবিবি বাস টার্মিনালে এসে নামেন। ইউপি সদস্য সোহাবুল সেখান থেকে তাঁকে উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে নিয়ে যান। এ সময় দুদু মিয়ার সহযোগিতায় তাঁকে ধর্ষণ করেন ইউপি সদস্য সোহাবুল। ধর্ষণের শিকার নারী বাদী হয়ে পরদিন মঙ্গলবার দুজনকে আসামি করে থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ইউপি সদস্য সোহাবুল পাওনা টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে পোশাককর্মী নারীকে ডেকে এনে একটি বাড়িতে রেখে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে ইউপি সদস্য ও তাঁর সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই দিন রাতেই মামলার দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন