default-image

পাওনা ৫০০ টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দুই বন্ধুর কথা–কাটাকাটি হয়েছিল। এর জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আট বন্ধু মিলে একজনকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মো. তাসিন (২২) হত্যার ১৮ মাস পর এমন তথ্য পেয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বুধবার ভোরে ঢাকার খিলগাঁও এলাকা থেকে তাসিনের বন্ধু নজরুল ইসলামকে (২২) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এরপর নজরুল জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা দেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে নজরুলের দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, খিলগাঁও রেলগেট থেকে ৮ নম্বর রুটে সিএনজি অটোরিকশা চালান নজরুল। টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি প্রতিবেশী বন্ধু তাসিনের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নেন। তাঁরা দুজনই খিলগাঁও তালতলায় থাকতেন। তাসিন একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। আট দিন পরই তাসিন পাওনা টাকা ফেরত চান। নজরুল ৪–৫ দিন সময় চাইলে তাসিন তাঁকে গালাগালি করেন, হুমকি দেন। ওই ঘটনার দুদিন পর তাসিনের আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল তাঁর বন্ধু শুক্কুরের সঙ্গে পরামর্শ করে তাসিনকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা অনুসারে ২০১৯ সালের ১ মে বেলা ১১টার দিকে নজরুল (২২), শাওন (১৯), মো. ইমরান (২০), মো. শামীম (১৯), মো. আব্বাস (১৯), তাহের, নাদিম ও শুক্কুর আলী মিলে তাসিনকে নিয়ে দুটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বেড়াতে যান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল ৩০০ ফুট রাস্তার কাছে কাঞ্চন এলাকার লেকে যান। হোটেলে চা–নাশতা করেন। সিএনজি থেকে সবাই লেকের পাড়ে নামেন। শামীম লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। একপর্যায়ে সবাই মিলে তাসিনকে ঘাড়ে ধরে মাথা ও মুখ পানিতে ডুবিয়ে রাখেন। এভাবে কিছুক্ষণ ধরে রাখার পর তাসিন পানির নিচে তলিয়ে যান। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ লেকের পানিতে ফেলে তাঁরা বাসায় চলে যান।

পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম আরও জানান, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য পড়ুন 0