default-image

নীলফামারী জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নে দুস্থ নারীদের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক সচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কার্ড পাওয়া অনেকের আছে আধা ও পাকা বাড়ি, যা নির্মাণে কার্ডপ্রাপ্তরা কয়েক লাখ টাকার বেশি খরচ করেছেন।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের নীতিমালা অনুযায়ী দুস্থ, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, ভূমিহীন ও স্থায়ী বা নিয়মিত আয়ের উৎস নেই, এমন নারীদের এ সুবিধা পাওয়ার কথা। অথচ গত বছরের অক্টোবরে কার্ড পাওয়া বেশ কয়েকজনের আছে পাকা বাড়ি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন কাজ করে আয় করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত টুপামারী ইউনিয়নের ১ হাজার ৪০০ জন ভিজিডির কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। বাছাই শেষে ২১৫ জনকে ওই কার্ড দেওয়া হয়। অপেক্ষমাণ আছেন ২৭ জন। এরপরই কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর স্থানীয় কয়েকজন ইউএনওর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া কথা থাকলেও কমিটির প্রধান ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী আলমগীর মো. রুহুল ইসলাম বলেছেন, তিনি চিঠি দেরিতে পেয়েছেন। তাই কাজ শুরু করতেও দেরি হয়েছে। তদন্ত শেষে আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেবেন। ইউএনও এলিনা আকতার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে কার্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় নাম আছে ইউনিয়নের সুখধন গ্রামের খালেদা বেগমের (২৫)। সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০ শতক জায়গার ওপর পাকা বাড়ি। খালেদার পরিবার এক বছর আগে এই বাড়ি নির্মাণ করে। এতে খরচ হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। খালেদার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ৩০ কেজি করে চাল উত্তোলন করছেন। তাঁর স্বামী ফারুক হোসেন রামগঞ্জ বাজারে মোটর–ইজিবাইক মেরামতের কাজ করেন।

একই গ্রামে চার কক্ষের পাকা বাড়ি আছে আজিজুল ইসলামের। তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের নামে ভিজিডি কার্ড হয়েছে। আজিজুল ইসলাম বলেন, তিনি গরুর ব্যবসা করে সংসার চালান। দুই ছেলে ইটভাটায় কাজ করেন। ছেলেরা তাঁদের আয়ের টাকায় ১৫ শতক জমি কিনে বাড়ি করেছেন।

চৌধুরীপাড়া গ্রামের মো. আবদুল্লাহ ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালামের ছোট ভাই। তিনি ইউনিয়নের টুপামারী বাজার নুরানি মাদ্রাসার সুপার ও স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। আবদুল্লাহর স্ত্রী রিনা আক্তারের নামেও ভিজিডির কার্ড আছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবুল কালাম বলেন, তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী কার্ড পাওয়ার যোগ্য। তাই তাঁকে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে ইউএনওর কাছে অভিযোগকারীদের একজন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম শাহ বলেন, অর্থের বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতি করেই এমন ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়া হয়েছে।

টুপামারী ইউপির সচিব মোস্তাক হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে কার্ডের সুবিধার জন্য ১ হাজার ৪০০ জন আবেদন করেছিলেন। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি যাচাই-বাছাই করে ৪৩০ জনের তালিকা উপজেলা কমিটির কাছে পাঠায়। সেখান থেকে ২১৫ জন সুবিধাভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে টুপামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মছিরত আলী শাহ ফকির প্রথম আলোকে বলেন, তালিকায় সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য কেউ থাকলে তাঁকে বাদ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন