পাকা রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা

শৈলকুপা উপজেলার শেষ প্রান্তের মানুষদের ঝিনাইদহ শহরে যেতে হয় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে।

কাদাপানিতে একাকার সড়ক। পিচের দেখা পাওয়া যায় না। ২১ আগস্ট ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে।
ছবি: প্রথম আলো

দুই কিলোমিটার রাস্তায় কাদায় ভরে আছে। পিচ-পাথর উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এখন আর বোঝার উপায় নেই এখানে একসময় পাকা রাস্তা ছিল। বেহাল সড়ক দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, পথচারীরা হেঁটেও যাতায়াত করতে পারেন না।

এই অবস্থা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ও শৈলকুপা উপজেলার পিড়াগাতি গ্রামের দুই কিলোমিটার সড়কের।

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, রাস্তাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন। দুই উপজেলার মাঝে হওয়ায় সড়কের এই দুই কিলোমিটার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে শৈলকুপা উপজেলার শেষ প্রান্তের মানুষের ঝিনাইদহ শহরে যেতে হয় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে এলজিইডি দপ্তরে একাধিকবার ধরনা দিয়েছেন। তবে সড়ক সংস্কার হয়নি। অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের ঝিনাইদহ অংশের পাঁচমাইল এলাকা থেকে উত্তর দিকে আরেকটি পিচঢালাই রাস্তা নেমে গেছে। এটি ঝিনাইদহের বিজয়পুর, দুর্গাপুর, শৈলকুপার পিড়াগাতি, ফাদিলপুর হয়ে শৈলকুপা শহরে পৌঁছেছে। শৈলকুপা শহর থেকে ফাদিলপুর হয়ে পিড়াগাতি গ্রাম পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার পিচের রাস্তা রয়েছে। আর দুর্গাপুর থেকে ঝিনাইদহ শহর পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রাস্তাও পিচঢালাই। কিন্তু দুর্গাপুর ও পিড়াগাতি গ্রামের মাঝে দুই কিলোমিটার বেহাল সড়ক। পিচ উঠে সেখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ওই রাস্তা কাদাপানিতে ভরে আছে।

দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, এই রাস্তা ১৫-১৬ বছর আগে পাকা করা হয়েছিল। এরপর ঝিনাইদহ এলজিইডির পক্ষ থেকে দুর্গাপুর গ্রামের বসতি এলাকার শেষ পর্যন্ত এবং শৈলকুপা এলজিইডির পক্ষ থেকে পিড়াগাতি গ্রামের বসতি এলাকার শেষ পর্যন্ত মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু দুই উপজেলার উভয় অংশে মাঠের মাঝের দুই কিলোমিটার মেরামত হয়নি।

আবু বক্কর আরও বলেন, সড়কের ওই স্থান ভেঙে গেছে, বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন মাটি বেরিয়ে থাকায় রাস্তায় কাদায় ভরে গেছে। এখন আর রাস্তাটি দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে একসময় পাকা রাস্তা ছিল।

ফাদিলপুর বাজারটি শৈলকুপা উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত। এটি এলাকার একটি বড় বাজার। এই বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, এই সামান্য রাস্তাটির জন্য তাঁরা ঝিনাইদহ শহরে যেতে পারেন না। তারপরও অনেকে শৈলকুপা শহর হয়ে ঝিনাইদহে যান। এতে তাঁদের ৩০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। দুর্গাপুর হয়ে ঝিনাইদহ গেলে মাত্র ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই হয়। এ ছাড়া এলাকার কৃষিপণ্য বাজারে নিতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

আবদুস সাত্তার নামের একজন বলেন, তাঁরা দুর্গাপুরের শেষ প্রান্তে যেখানে পাকা রাস্তা শেষ হয়েছে, সেই পর্যন্ত যান। এরপর যাত্রীরা হেঁটে পিড়াগাতি গ্রামে পৌঁছায়। সেখান থেকে অন্য গাড়িতে উঠে গন্তব্যে যায়। মাঝেমধ্যে যাত্রীরা কাদায় হাঁটতে গিয়ে কাদামাটি মেখে আসে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ে লিখেছেন। কিন্তু এখনো বরাদ্দ আসেনি। বিষয়টি নিয়ে আবারও উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করবেন। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সড়ক মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।