বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনামাফিক মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়-সংলগ্ন গাছগাছালিতে পাখিদের জন্য হাঁড়ি-পাতিল বসানো হয়েছে। পাখিদের ঈদ উপহার হিসেবে গত সোমবার ঈদের আগের দিন থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। পাখিপ্রেমের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে তাঁদের এই কার্যক্রম।

গতকাল শুক্রবার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের (সাবেক সেন্ট্রাল রোড) অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কার্যালয়ের প্রবেশফটকের দুই পাশে দুটি সাইনবোর্ড ঝুলছে। সেখানে লেখা, পাখির জন্য ভালোবাসার নীড়। এতে আহ্বান জানানো হয়েছে, ‘আসুন সবাই মিলে পাখিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলি।’ ওই এলাকায় আম, মেহগনি, লিচু, অর্জুনসহ বিভিন্ন ধরনের গাছগাছালি আছে। ওই গাছগাছালিতে পাখিদের বাসস্থানের জন্য বাঁধা হয়েছে মাটির হাঁড়ি।

default-image

ভালোবাসার নীড় উদ্যোক্তাদের একজন মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, রাজশাহীর একটি গ্রামে পাখির প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখেছিলেন। সেখানে হাজারো পাখির বাস। বিষয়টি তাঁকে আলোড়িত করে। সেটা দেখেই পাখির জন্য অভয়ারণ্যের মতো কিছু করার ইচ্ছা জাগে তাঁর। উদ্যোক্তাদের আরেকজন অনলাইন পোর্টাল আই নিউজের সম্পাদক হাসানাত কামাল ঝড়-তুফানে পাখির বাসা ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখেছেন। বৃষ্টি-বাদলে পাখির ছানা মাটিতে পড়ে মারা যায়। আহত ও বিপন্ন পাখির ছানাদের উদ্ধার করা হলেও তাদের বাঁচানো যায় না। তিনিও পাখিদের জন্য প্রকৃতির মধ্যেই স্থায়ী বাসার মতো কিছু তৈরি করা যায় কি না, ভাবেন। দুজনের ভাবনা মিলে যাওয়ায় কীভাবে সেটি বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেন তাঁরা।

উদ্যোক্তারা জানান, পাখিদের জন্য কিছু করতে তাঁরা পরিকল্পনা শুরু করেন। এ নিয়ে বন্য প্রাণী ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পরিচিত লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেন। কিন্তু তত দিনে দেশে করোনা মহামারি জেঁকে বসে। স্থবির হয়ে পড়ে সবকিছু। সম্প্রতি সংক্রমণ কমে আসায় সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তাই তাঁরা আবার কাজে হাত দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃষ্টির পানি জমে না, এমন ছিদ্রযুক্ত মাটির পাতিল সংগ্রহ করেন। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়-সংলগ্ন গাছগাছালিতে ২০টি হাঁড়ি-পাতিল বসানো হয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পাখিদের আনাগোনা আছে। তাঁদের উদ্দেশ্য, শালিক, ঘুঘু, বুলবুলি, চড়ুই, টুনটুনি, দোয়েল, ফিঙেসহ স্থানীয় জাতের পাখিদের রক্ষা করা। যেগুলো বড় হয়ে প্রকৃতি-পরিবেশকে সমৃদ্ধ করবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রাজশাহীর একটি গ্রামে তিনি হাজার হাজার পাখি দেখেছেন। তা দেখে মনে হয়েছে পাখির জন্য নিরাপদ বাসা ও অভয়ারণ্য তৈরি করে দিতে পারলে পাখির সংখ্যা আরও বাড়বে। এই ভাবনা থেকেই গাছে হাঁড়ি লাগানো শুরু। ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি গাছে এই হাঁড়ি লাগানো হবে।

ভালোবাসার নীড়ের উদ্যোক্তারা প্রথম আলোকে বলেন, ঝোপঝাড়, দেশীয় ও পুরোনো গাছপালা কমে যাওয়ায় আবাসস্থল হারিয়েছে স্থানীয় জাতের পাখিরা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাখিদের পুরোনো পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে চান তাঁরা। যাতে প্রজনন মৌসুমে পাখিরা এসব হাঁড়ি-পাতিলে বাসা তৈরি করতে পারে। নিরাপদে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটাতে পারে। আরও ৫০টি হাঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সুবিধাজনক স্থানে গাছে গাছে এসব মাটির হাঁড়ি বসানো হবে। তৈরি হবে পাখির জন্য ভালোবাসার নীড়।

default-image

আই নিউজের সম্পাদক হাসানাত কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম। করোনার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ সময়ে কোন ধরনের পাখি কোথায় বসতে পারে, এ নিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় এ রকম মাটির হাঁড়ি-পাতিল দেওয়া হয়েছে।’ তাঁদের উদ্দেশ্য, এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পাখি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা, যাতে মানুষ পাখির বাসা সংরক্ষণ করে। পাখিকে রক্ষা করে। পাখির বংশ বৃদ্ধি পায়। অন্তত প্রজনন মৌসুমে মানুষ হুট করে গাছ, ঝোপঝাড় কেটে না ফেলে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন