default-image

মৌলভীবাজারে অবস্থিত হাকালুকি হাওরে কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা কম। ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি হাওরের ৪৩টি বিলে দুই দিনের পাখিশুমারি শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান (আইইউসিএন), প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন (পিওজেএফ) এবং বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের (বিবিসি) সদস্যরা যৌথভাবে এ শুমারি চালান। ১৯৯৯ সালে সরকার এই হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া—ইসিএ) ঘোষণা করেছিল।

শুমারি দলের সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে হাকালুকি হাওরটি বিস্তৃত। এটি দেশের বৃহত্তম হাওর। ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ৯ সদস্যের দুটি দল দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে হাওরের ছোট-বড় বিভিন্ন বিলে শুমারি শুরু করেন। বিকেল পর্যন্ত তা চলে। ২৪ ফেব্রুয়ারিও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একইভাবে শুমারি চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন দেশের বিশিষ্ট পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক।

ইনাম আল হক আজ বৃহস্পতিবার সকালে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, শুমারিকালে হাওরের ৪৩টি বিলে ৪৫ প্রজাতির মোট ২৪ হাজার ৫৫১টি জলচর পাখি দেখা গেছে। এর মধ্যে ১৪ প্রজাতির হাঁস আছে। পিয়াং হাঁস মিলেছে ২ হাজার ১২টি। হাওরখাল বিলে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৮৯টি পাখির দেখা মিলেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৯১৬টি শামুকভাঙা পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত বছর শুমারিকালে হাওরে ৫৩ প্রজাতির ৪০ হাজার ১২৬টি জলচর পাখির দেখা মিলেছিল। এর মধ্যে ছিল মহাবিপন্ন বেয়ারের ভুতিহাঁস, সংকটাপন্ন পাতি–ভুতিহাঁস এবং সংকটাপন্ন প্রায় মরচেরঙ ভুতিহাঁস, ফুলুরি হাঁস, কালামাথা কাস্তেছড়া, উত্তুরে টিটি ও উদয়ী গয়ার। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি, ২০১৮ সালে ৪৪ প্রজাতির ৪৫ হাজার ১০০ এবং ২০১৭ সালে ৫০ প্রজাতির ৫৮ হাজার ২৮১টি পাখি মিলেছিল।

পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলানায় পাখির সংখ্যা এবার কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইনাম আল হক বলেন, অন্যান্য বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে তাঁরা শুমারি করতেন। এবার দেরি হয়েছে। অধিকাংশ বিলে পানি কমে গেছে। যেসব পাখি গভীর পানিতে থাকে, সেগুলোকে দেখা যায়নি। এসব পাখি অন্যত্র চলে গেছে। শুধু কম পানিতে থাকা পাখির দেখা মিলেছে। দেরিতে শুমারি হওয়ায় পাখির সংখ্যা কম হয়েছে। তবে অন্য কারণও থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, গত বছর শুমারিকালে হাওর, খাল ও বিলে একটি মৃত টিকিহাঁস পাওয়া গিয়েছিল। শীত মৌসুমে দুর্বৃত্তরা হাওরে বিষটোপ দিয়ে পাখি নিধন করে। বিষে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি পাখি মারা যায়। কারণ, বিষের প্রভাব দীর্ঘ সময় থাকে। পাখিরা তাদের জীবন বিপন্ন মনে করলে আর ওই হাওরে ভিড় করে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন