বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাউন্ডবক্সে পাখির ‘নকল ডাক’ বাজিয়ে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখি শিকার করা হচ্ছে। শিকারের এই নতুন কৌশলের বিরুদ্ধে করণীয় কী?

নির্মল কুমার পাল: বাগেরহাটের মোল্লাহাট ও চিতলমারীর বিল এলাকার কয়েকটি গ্রামে এমন উপায়ে পাখি শিকার হচ্ছে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে। আমরা ইতিমধ্যে ওই সব এলাকায় সাধারণ মানুষকে নিয়ে পাখি শিকার বন্ধে কাজ করেছি। পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা থেকে প্রায় এক মণ পাখি ধরার জাল জব্দ করা হয়েছে। যারা পাখি ধরছে বলে তথ্য ছিল, তাদের সতর্ক করে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে। পাখিসহ বন্য প্রাণী রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ওই এলাকার সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজকে নিয়ে আমরা বড় ধরনের সভা করার উদ্যোগ নিচ্ছি। চলতি মাসেই আমরা এটি করব।

দেশে পরিযায়ী পাখির আগমন আগের চেয়ে কমছে। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

নির্মল কুমার পাল: শিকারের জন্যই পরিযায়ী পাখির আগমন কমছে, এমন নয়। জলবায়ু পরিবর্তনও এ ক্ষেত্রে একটি কারণ হতে পারে। শিকার কিন্তু আগের তুলনায় কমেছে। আগে একটা সময় যেমন মানুষ যেখানে–সেখানে পাখি শিকার করতেন, হাটে-বাজারে ফেরি করে পাখি বিক্রি হতো; এখন কিন্তু তা কমেছে। তবে এটি ঠিক, পাখি শিকার একদম বন্ধ করা যায়নি। আর্থসামাজিক অবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে চোরা শিকারিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ায় পাখি শিকার আগের চেয়ে কমে আসছে। নিধন বেড়েছে বলে পাখি আসছে না, এমনটা নয়।

পাখি শিকার রোধে বর্তমানে আপনারা কীভাবে কাজ করছেন?

নির্মল কুমার পাল:যেসব জায়গায় এমন শিকার বেশি হচ্ছে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি করছি। উদ্বুদ্ধ করেও যাদের এমন অপরাধ থেকে ফেরানো যাচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। র‍্যাব, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

শিকার ও বন্য প্রাণী অপরাধ দমনে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে আপনারা কীভাবে সমন্বয় করছেন?

নির্মল কুমার পাল:আমরা ফিল্ডে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। একই সঙ্গে বন্য প্রাণীসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য থাকলে তাদের সঙ্গে নিয়েই অভিযান পরিচালনা করি। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদেরও যুক্ত করছি।

পাখি শিকার রোধে করণীয়?

নির্মল কুমার পাল:আমাদের একার পক্ষে আসলে শিকার রোধ করা সম্ভব নয়। পদ্মার এই পারের সব কটি জেলা আমরা দেখভাল করি। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আমরা বিভিন্ন বার্ড ক্লাব ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তা নিচ্ছি। এমন সংগঠন গড়ে তুলতে সহায়তা করছি। তারা পাখি শিকার রোধে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধও গড়ে তুলছে। কোনো ক্ষেত্রে তারা না পারলে আমাদের জানায়। তখন আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় আমরা পাখি শিকার রোধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি। সাতক্ষীরা, কালীগঞ্জ, তালা, খুলনার তেরখাদা, ঝিনাইদহের শৈলকূপায় কাজ করে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। ব্যক্তিপর্যায় থেকে প্রশাসন—সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে পাখিসহ বন্য প্রাণী রক্ষা করা সম্ভব হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন