বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক নুর আলম বলেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামের রবীন্দ্রনাথ বর্মন ও ঝন্টু বর্মনের পুকুরে উদবিড়াল (ভোঁদড়) গেলে তাঁরা জাল দিয়ে ধরে পিটিয়ে সেটিকে হত্যা করেন। স্থানীয় লোকজন বারবার মারতে নিষেধ করলেও কর্ণপাত না করে বন্য প্রাণীটি পিটিয়ে হত্যা করেন তাঁরা।

স্থানীয়রা ধারণা করছেন, সুন্দরবনে অবমুক্ত করা উদবিড়াল দুটি নদী পেরিয়ে কলবাড়ি গ্রামে প্রবেশ করে। কারণ, এই গ্রামে এর আগে উদবিড়াল দেখা যায়নি।

রবীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, উদবিড়ালটি তাঁর পুকুরে নেমে মাছ খেয়ে ক্ষতি করছিল। এ কারণে প্রথমে সেটিকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটি না যাওয়ায় জাল দিয়ে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, উদবিড়াল হত্যা করা যে অপরাধ, তা তিনি জানতেন না।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল বলেন, তাঁরা ধারণা করছেন, সুন্দরবনে অবমুক্ত করা উদবিড়াল দুটি নদী পেরিয়ে কলবাড়ি গ্রামে প্রবেশ করে। কারণ, এই গ্রামে এর আগে উদবিড়াল দেখা যায়নি। আর এই এলাকায় চুনকুড়ি নদীর ওপারেই সুন্দরবন। উদবিড়াল দুটির একটি পুকুরে প্রবেশ করে। পরে সেখান থেকে জাল দিয়ে ধরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আরেকটি উদবিড়ালকেও এলাকাবাসী ঘুরে বেড়াতে দেখেছে। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, যে–ই হত্যা করুক না কেন, তিনি অপরাধ করেছেন।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বলেন, বন্য প্রাণী উদবিড়াল হত্যা করায় রবীন্দ্রনাথ বর্মন ও ঝন্টু বর্মনকে শুক্রবার বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিজিবি উদ্ধার করার পর অবমুক্ত করা উদবিড়াল দুটির মধ্যে একটি হত্যার স্বীকার হয়েছে কি না, বন বিভাগ নিশ্চিত হতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘দুটি উদবিড়াল সুন্দরবনের মধ্যে অবমুক্ত করেছিলাম। সেগুলোর লোকালয়ে আসা কঠিন।’

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ মুর্শিদ বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি বন বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। তাদের আইনি সহযোগিতা লাগলে করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন