পাটকল চালুর দাবিতে ৮ বাম ও গণতান্ত্রিক দলের মানববন্ধন

বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করে চালু ও শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে খুলনার ১৪–দলীয় জোটভুক্ত বাম ও গণতান্ত্রিক দলের মানববন্ধন। পিকচার প্যালেস মোড়, খুলনা, ১২ সেপ্টেম্বর।
বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করে চালু ও শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে খুলনার ১৪–দলীয় জোটভুক্ত বাম ও গণতান্ত্রিক দলের মানববন্ধন। পিকচার প্যালেস মোড়, খুলনা, ১২ সেপ্টেম্বর। প্রথম আলো
বিজ্ঞাপন

বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর দাবিতে এবার আন্দোলন শুরু করেছে ১৪–দলীয় জোটভুক্ত বাম ও গণতান্ত্রিক দলগুলো। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই জোটের খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে নগরের পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য শরীফ শফিকুল হামিদ। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি খুলনা মহানগর সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) জেলা সভাপতি মো. ফজলুর রহমান, জাসদ মহানগর সভাপতি মো. খালিদ হোসেন, সাম্যবাদী দলের জেলা সম্পাদক এফ এম ইকবাল, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দেলোয়ার উদ্দিন, জাসদ জেলা সাধারণ সম্পাদক স ম রেজাউল করিম, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হাওলাদার, পাটকলের শ্রমিকনেতা মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়, মুক্তিযুদ্ধ— সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে পাটের সম্পর্ক। বাংলাদেশের ৭২-এর সংবিধানে পাট ও পাটশিল্পকে জাতীয় সম্পদ, জাতীয় ঐতিহ্য ও গৌরবের ধারক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। পাট বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ। সেই পাট ও পাটশিল্প ধ্বংস হওয়ার অর্থ বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনার যোগ্য। সে কারণে ১৪–দলীয় জোটভুক্ত বাম ও গণতান্ত্রিক দল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ও পিপিপি, লিজ বা ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়া সমর্থন করে না। বাংলাদেশের ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো রাষ্ট্রীয় খাতে রেখেই আধুনিকায়ন করে চালু করার দাবি করে তারা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বক্তারা আরও বলেন, এর আগে ব্যক্তি খাতে পাটকল ছেড়ে দেওয়ার ফলাফল ভালো হয়নি। ওই খাত দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। পরে এক সময় আবার তা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করে চালু করলে সরকার লাভের মুখ দেখতে পারবে।

মানববন্ধনের পর মুঠোফোনে জানতে চাইলে জোটভুক্ত বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম বলেন, এটা সরকারের বিরোধিতা নয়, এটা গরিব মেহনতি মানুষের দাবির প্রতিফলন। তা ছাড়া পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকার জোটভুক্ত কোনো দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই নিয়েছে। এ কারণে সরকারের ওই সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত হয়নি বলে মনে করছে জোটভুক্ত আটটি বাম ও গণতান্ত্রিক দল। এ কারণেই পাটকল বন্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে দলগুলো।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন