‘পাটকল বন্ধ করে ৫০ হাজার মানুষকে কর্মহীন করেছে সরকার’

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পুনরায় চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। আজ খালিশপুর পিপলস মোড়ে
ছবি: প্রথম আলো

করোনাকালে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে ৫০ হাজার শ্রমিককে কর্মহীন করেছে সরকার। এর মাধ্যমে লক্ষাধিক মানুষকে নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এটা সরকারের চরম নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরের খালিশপুর পিপলস গোল চত্বরে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সম্পদ রক্ষা, রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলে উৎপাদন চালু, খালিশপুর, দৌলতপুর জুট মিলসহ পাঁচটি জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ, খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে খালিশপুর-দৌলতপুর জুট মিল যৌথ কারখানা কমিটি।

সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলের আধুনিকায়নে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। সেই টাকা বরাদ্দ না দিয়ে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকার কি আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি বন্ধ করতে পেরেছে, প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে লোকসানের প্রধান কারণ দুর্নীতি, কারখানা আধুনিকায়ন না করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না হওয়া। এসব সমস্যার সমাধান না করে সরকার সরাসরি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। তাই দুর্নীতির দোহাই দিয়ে সব দায় শ্রমিকের ওপর না চাপানোর অনুরোধ করেন তিনি।

জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার পাটকলের শ্রমিকদের পেটে লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। শ্রমিকেরা তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে খাবার দিতে পারছেন না। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, মানুষের আয় বেড়েছে ফলে দ্রব্যমূল্য নিয়ে নাকি মানুষ চিন্তিত নয়। মন্ত্রীরা শুধু মিথ্যাবাদীই নন, বরং মানুষের জীবন, কষ্ট ও দুর্দশা নিয়ে তাঁরা তামাশা ও তাচ্ছিল্য করছেন। এর প্রতিদান তাঁরা এক দিন পাবেন। মানুষের বাঁচার সংগ্রামই সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেবে।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরকারকে দায়ী করে সাকি বলেন, সয়াবিন তেলের দাম এক বছরে কোথা থেকে কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। বিক্রেতারাই নির্ধারণ করে দেন আজ তেলের দাম ১০ টাকা বাড়বে নাকি ১৫ টাকা বাড়বে। তাঁরা সরকারের অপেক্ষা করেন না। কারণ তাঁরা জানেন, সরকার তাঁদের পেছনে আছে। একইভাবে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, এ সরকার আর সিন্ডিকেটের ভেতরে কোনো পার্থক্য নেই। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে লুণ্ঠন হয়, সরকারের মন্ত্রীরা সরাসরি তাঁর ভাগ পান। এভাবেই তাঁরা জনগণের পকেট কাটেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খালিশপুর-দৌলতপুর জুট মিল যৌথ কারখানা কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেন। এটি সঞ্চালনা করেন ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগরের আহ্বায়ক আল আমিন শেখ। এ ছাড়া সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোট খুলনার সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) খুলনা মহানগরের সভাপতি মিজানুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলন খুলনার সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্ক্সবাদী) খুলনা জেলা সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক খান, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ খুলনার সদস্য কাজী দেলোয়ার হোসেন, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদ খুলনার সমন্বয়ক রুহুল আমিন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম চন্দন, দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকনেতা নূর মোহাম্মদ প্রমুখ।