মাহবুবুল আলম জানান, তিনি মূলত গাড়িচালক। তবে ঈদের সময় কোরবানির এসব উপকরণের ব্যবসা করেন। এবার তিনি ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তাঁর আশা, সব টাকাই উঠে আসবে।

ঈদের দুই দিন আগে চট্টগ্রামে জমে উঠেছে পশুর সাজসজ্জা ও মাংস কাটাকাটির উপকরণের বাজার। অলিগলিতে, বাজারে–বাজারে মাহবুবুল আলমের মতো স্থায়ী ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। চট্টগ্রামে এবার তিনটি স্থায়ী ও চারটি অস্থায়ী হাটে পশু কেনাবেচা চলছে। এসব হাটের সামনে ব্যবসায়ীরা নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

বিকেলে বিবিরহাট থেকে ৭৭ হাজার টাকায় লাল রঙের একটা গরু কিনে বের হচ্ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী ফয়জুল কবির। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই ছেলে সালমান কবির ও আয়মান কবির। হাট থেকে বের হয়ে তাঁরা চলে আসেন পাটি, পশুখাদ্য ও সাজসজ্জার উপকরণ নিয়ে বসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কাইয়ুমের কাছে। তাঁর কাছ থেকে কিনে নেন ঘাস, পাটি, ছুরি ও গাছের গুঁড়ি। কেনাকাটার একফাঁকে ফয়জুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ছোট ও মাঝারি গরুর দাম একটু বেশি। পাটি, ছুরি, বঁটির দামও বাড়তি।

সাগরিকা পশুর হাটের সামনে আজ শুক্রবার বিকেলে বিভিন্ন রকমের মালা বিক্রি করছিলেন এক তরুণ। কাছে গিয়ে জানা গেল, তাঁর নাম মোহাম্মদ রফিক। বয়স ১৮। মুদিদোকানে কাজ করতেন তিনি। এখন ঈদের আগে মালা বেচাকেনা করছেন। তাঁর কাছে কাগজের মালা রয়েছে বিভিন্ন রকমের। দাম পড়ছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। এ ছাড়া জরির মালা ৩০ থেকে ২০০ টাকা, কাপড়ের মালা ১০০ থেকে ২০০ টাকা, মাঝারি ঘুঙুরের দড়ির মালা ১০০ থেকে ২০০ টাকা। রফিকের পাশে সাজসজ্জা ও মাংস কাটার উপকরণ বিক্রি করছিলেন মধ্যবয়সী আবদুল আজিজ। তিনি জানান, ছোট আকারের ঘণ্টা লাগানো মালার দাম রাখছেন ৫০ থেকে ২০০ টাকা। আরও রয়েছে নূপুর, জরির ফিতাসহ নানা কিছু।

সাগরিকা গরুর হাটের সামনে ফখরুল আলম নামের এক ক্রেতা বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার ওই হাট থেকে তাঁরা তিন ভাই মিলে গরু কিনেছেন। দাম পড়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। আজ শুক্রবার এসেছেন সাজসজ্জার উপকরণ কিনতে। পরে তিনি মালা, ঘণ্টা ও গরুর খাবার কিনে বাসায় ফেরেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন