বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করেন। গত এক সপ্তাহ ঈদে ঘরমুখী মানুষ পাটুরিয়া ঘাট হয়ে গ্রামের বাড়িতে যেতে শুরু করেন। গত শুক্রবার থেকে গতকাল রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের ব্যাপক চাপ বেড়ে যায়। যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো পাটুরিয়া ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষা করেছে। প্রচণ্ড গরমে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন। এ ছাড়া ঘাট এলাকায় গত তিন-চার দিন ব্যক্তিগত গাড়ির আগমন ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যাত্রী ও নদী পারাপারে দূরপাল্লার বাসের চাপ স্বাভাবিক হতে থাকে। একপর্যায়ে যাত্রী ও যাত্রীবাহী বাসের চাপ একেবারেই কমে যায়। এরপর থেকে নদী পারের অপেক্ষায় থাকা পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে পারাপার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, এবার ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ছোট-বড় ২১টি ফেরি চলাচল করেছে। সব ফেরি সচল থাকায় এবার যাত্রীদের ভোগান্তি অন্যবারের তুলনায় কম ছিল। তবে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ না থাকায় চারটি ফেরি ঘাট এলাকায় পন্টুনে রাখা হয়েছে। বাকি ১৭টি ফেরি যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ একেবারেই কম। দু-চারজন করে যাত্রী এবং দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ঘাটে আসার পরপরই নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া প্রান্তে চলে যাচ্ছে। ঘাটে নদী পারাপারে অপেক্ষমাণ পণ্যবাহী গাড়িও নেই বললেই চলে।

default-image

ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য যশোরে গ্রামের বাড়িতে যেতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সকাল ১০টায় পাটুরিয়া ঘাটে আসেন আফজাল হোসেন। ঘাটে আসার পরপরই তিনি ফেরিতে উঠে পড়েন। তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে ঈদের আগের দিন ঘাটে প্রচণ্ড চাপ থাকে। তবে এবার উল্টো চিত্র! এত তাড়াতাড়ি ফেরি পাব, কখনো ভাবিনি।’

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দিন রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল থেকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকা অনেকটা ফাঁকা। দুপুরের পর থেকে পাটুরিয়া যাত্রী ও যানবাহনশূন্য। যানবাহনের জন্য ফেরিকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিকেল পাঁচটায় পাটুরিয়া প্রান্তে সাতটি ফেরি পন্টুনে যানবাহনের অপেক্ষায় অবস্থান করছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন