পাটুরিয়া লঞ্চ মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, ঈদে যাত্রীদের মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌপথে পারাপারের জন্য ২১টি লঞ্চ চলছে। এমভি (বড়) ও এমএল (ছোট) লঞ্চ রয়েছে এই নৌপথে। এমভি লঞ্চে ১৮০ জন এবং এমএল লঞ্চে ১২০ জন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করা যায়।

ঢাকার আশুলিয়া থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছিলেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার খোকন মিয়া (৪০)। স্ত্রী ও তিনি আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লঞ্চঘাটে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফেরিতে নদী পারাপারে সময় বেশি লাগে। তাই দ্রুত নদী পার হতে লঞ্চে উঠছি।’

তবে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের সুপার ভাইজার পান্নালাল নন্দী বলেন, ‘আমরা ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী লঞ্চে বহন করছি না। তবে দু-একটি লঞ্চে দু-একজন যাত্রী হুড়োহুড়ি করে উঠে পড়লেও তাঁদের লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে একই নৌ চ্যানেল দিয়ে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল করছে। এতে ফেরি ও লঞ্চের সংঘর্ষে নৌ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। লঞ্চসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে ফেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নৌ চ্যানেল দিয়ে চলাচল করার কারণে সময় কম লাগায় ফেরিতে বেশিসংখ্যক যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা সম্ভব।

এদিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপ ছিল অনেকটা স্বাভাবিক। সকাল ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী অর্ধশত বাস নদী পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। তবে সময় যত গড়াবে ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ তত বাড়বে বলে ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

ফরিদপুর নৌ অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, লঞ্চঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং লঞ্চে নির্ধারিত যাত্রী বহনে নৌ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো ও পরিবহন নিষেধে প্রতিনিয়ত মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন