বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবদুল কাউয়ুম (৪০) প্রথম আলোকে বলেন, স্ত্রীসহ ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন তিনি। ঈদের দুই দিন আগে তাঁরা গ্রামের বাড়িতে যান। ঈদ উদ্‌যাপন শেষে আজ সকালে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে করে অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে পাটুরিয়ার ৪ নম্বর ঘাটে আসেন। এরপর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যেতে প্রচণ্ড গরমে অন্যান্য যাত্রীর মতো তাঁদেরও হাঁটতে হয়। ঘাট এলাকায় রিকশাসহ তিন চাকার ছোট যান চলাচল করতে না দেওয়ায় দীর্ঘ পথ হেঁটে বাসের কাছে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।

দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। এ কারণে ঘাট এলাকায় কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ বেড়ে যায়। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে ফেরি ও লঞ্চে করে পদ্মা পার হয়ে যাত্রীরা পাটুরিয়া ঘাটে আসে। এতে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীদের ঢল নামে। এরপর প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাদের প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে ঢাকামুখী যাত্রীরা।

ঘাট এলাকায় দায়িত্বে থাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল জোবায়েদ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদ উদ্‌যাপন শেষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ কর্মস্থলের দিকে ছুটছে। আগামীকাল রোববার থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও পোশাক কারখানা খোলা। এ জন্য কর্মস্থলগামী মানুষ পাটুরিয়া ঘাট হয়ে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ফিরছে। আজ সকাল থেকে ঘাট এলাকায় যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত বাস থাকায় কর্মস্থলগামী এসব যাত্রীদের যানবাহনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে কর্মস্থলগামী যাত্রীদের নিয়ে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন পাটুরিয়ার ৪ নম্বর ঘাটে ভেড়ে। এ সময় গরমের মধ্যে ফেরিতে গাদাগাদি করে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে নদী পার হতে দেখা যায়। ফেরিতে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও সাত-আটটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল। ফেরি থেকে নামার পর প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে যাত্রীরা বাসের জন্য পুরোনো টার্মিনালের দিকে যায়।

default-image

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা থেকে আশুলিয়ায় যাচ্ছিলেন পোশাকশ্রমিক কুলসুম আক্তার (২০) ও তাঁর বোন সীমা আক্তার (২২)। বেলা দুইটার দিকে হেঁটে পাটুরিয়ার পুরোনো ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় আসার পর প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এ সময় গরম থেকে স্বস্তি পেতে তাঁদের টিউবওয়েলের ঠান্ডা পানি দিয়ে হাত-মুখ ভেজাতে দেখা যায়। তাঁদের দেখে অন্যান্য যাত্রীও হাত-মুখ ভিজিয়ে নিচ্ছিলেন।
কয়েকজন যাত্রী বলেন, ঘাট এলাকায় রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক চলাচল করতে না দেওয়ায় গরমে মালামাল ও শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে বাসের কাছে আসতে হচ্ছে। ঘাট এলাকার রাস্তার পাশে কোনো গাছপালাও নেই। গাছ লাগানো হলে রোদের তীব্রতা থেকে যাত্রীরা কিছুটা হলেও রক্ষা পেত।

এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. মেরাজ হোসেন বলেন, তিন চাকার ছোট যান ঘাট এলাকায় যানজট তৈরি করে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। গত ২৫ এপ্রিল পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় ঘাটসংশ্লিষ্ট সবাই তিন চাকার যান চলাচল বন্ধে মতামত দেন। এ জন্য যানজট নিরসনে ঘাট এলাকায় তিন চাকার ছোট যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে লঞ্চঘাটেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে লঞ্চে করে নদী পার হয়ে কর্মস্থলগামী অনেক যাত্রী পাটুরিয়া ঘাটে আসছে। কোনো কোনো লঞ্চে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২১টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রীদের পারাপার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, ঈদের ছুটির শেষ মুহূর্তে আজ যাত্রী ও যানবাহনের ব্যাপক চাপ বেড়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ২১টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। পর্যাপ্তসংখ্যক ফেরি থাকায় নদী পারাপারে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন