তিন দিনের ছুটির কারণে মানুষ ঘরমুখী হওয়ায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এতে দীর্ঘ সারিতে আটকা পড়েছে যানবাহন। শুক্রবার সকালে ঘাটের জিরোপয়েন্ট এলাকায়
তিন দিনের ছুটির কারণে মানুষ ঘরমুখী হওয়ায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এতে দীর্ঘ সারিতে আটকা পড়েছে যানবাহন। শুক্রবার সকালে ঘাটের জিরোপয়েন্ট এলাকায় ছবি: প্রথম আলো

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌপথের পাটুরিয়ায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে পাটুরিয়া প্রান্তে পারের অপেক্ষায় ছয় শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন ছিল। দীর্ঘ সময় ঘাট এলাকায় আটকে থাকায় যাত্রী ও যানবাহনের শ্রমিকেরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, সরকারি ছুটিসহ তিন দিনের ছুটি পাওয়ায় অনেকে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। এ কারণে পাটুরিয়ায় যানবাহন ও যাত্রীর চাপ পড়েছে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ছোট গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেলা দুইটার দিকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকা ছেড়ে আরসিএল মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারে যাত্রীবাহী বাসের সারি ছিল। এখানে দেড় শতাধিক যাত্রীবাহী বাস আটকা রয়েছে। দুটি ট্রাক টার্মিনালে তিন শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া আরসিএল মোড় থেকে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি সারিবদ্ধভাবে আটকা রয়েছে।

এদিকে ঘাট এলাকায় যানবাহনের বাড়তি চাপ এড়াতে সাত কিলোমিটার আগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বোয়ালিয়া এলাকায় সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি সিরিয়ালে রাখা হয়েছে।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ কবির বলেন, পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের বাড়তি চাপ এড়াতে উথুলী সংযোগ সড়কে দুই শতাধিক সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি সিরিয়ালে রাখা হয়েছে। ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ কমলে এসব পণ্যবাহী গাড়ি সিরিয়াল অনুযায়ী ঘাট এলাকায় পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার অনেক মানুষ পাটুরিয়া হয়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। এ কারণে পাটুরিয়ায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

বিআইডব্লিটিসি আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির সঙ্গে যোগ হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটি শুক্র থেকে রোববার পর্যন্ত তিন দিন ছুটি পাওয়ায় দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার অনেক মানুষ পাটুরিয়া হয়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। এ কারণে পাটুরিয়ায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এই নৌপথে ১৭টি ফেরির মধ্যে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাধবীলতা নামের একটি ফেরি পাটুরিয়ায় ভাসমান কারখানায় মেরামতে রয়েছে। বাকি ১৬টি ফেরি দিয়ে নিয়মিত যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী রাকিব হাসান বলেন, তিন দিনের ছুটি থাকায় আজ সকালে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে পাটুরিয়ার আরসিএল মোড় এলাকায় অন্যান্য বাসের মতো তাঁদের বাসটিও আটকা পড়ে। তিন ঘণ্টা পরও পারাপারের জন্য ফেরির টিকেট মেলেনি।

default-image

বেলা দুইটার দিকে রোজিনা পরিবহনের অপর যাত্রী আরাফাত হোসেন বলেন, পাঁচ ঘণ্টা ঘাটে আটকে থেকে ৩ নম্বর ঘাট এলাকায় পৌঁছেছে তাঁদের বাস। তবে ফেরিতে এখনো বাস উঠতে পারেনি। সেখানে আধা ঘণ্টার বেশি আটকে আছেন।
এ দিকে পাটুরিয়া ৫ নম্বর এলাকায় আটকা পড়েছে ব্যক্তিগত বিভিন্ন গাড়ি। বেলা দুইটার দিকে সেখানে আটকে থাকা একটি প্রাইভেট কারের আরোহী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘যশোর শহরে এক আত্মীয়ের বিয়েতে যাব। তিন ঘণ্টা ধরে ঘাটে আটকা আছি। মনে হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান আর যেতে পারব না।’

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, মূলত একসঙ্গে তিন দিনের ছুটি পাওয়ায় অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। এতে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের বাড়তি চাপ পড়েছে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছোট গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাস আগে পারাপার করা হচ্ছে। সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার সাময়িক বন্ধ রয়েছে। তবে যাত্রীবাহী বাসের চাপ কমে এলে এসব গাড়ি পারাপার করা হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন