বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকা গাড়িচালক ও সহকারীদের অনেককে দীর্ঘ যানজটের কারণে গাড়ির ভেতরেই ঘুমাতে দেখা গেছে। তবে পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থাকতে হলেও যাত্রীবাহী বাসগুলো এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফেরিতে উঠে যাচ্ছিল।

নারায়ণগঞ্জ থেকে সয়াবিন তেল নিয়ে গত বুধবার রাতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন ট্রাকচালক সোলায়মান হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার আগে উথলী এলাকায় তাঁর গাড়ি পুলিশ আটকে দেয়। পাটুরিয়া ঘাটে যানজট ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেখানে আরও শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি মহাসড়কের পাশে আটকে রাখা হয়েছিল।

গতকাল বিকেলে তিনি ঘাটের প্রায় তিন কিলোমিটার আগে নবগ্রাম এলাকায় আসেন। সেখানে আবার দীর্ঘ সারিতে আটকা পড়েন। রাত ১০টার দিকে তিনি পাটুরিয়া টার্মিনালে পৌঁছান।

আজ সকালে ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘এক দিন পার হলো, ঘাট এলাকায় আটকে আছি। আজকেও নদী পার হতে পারব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।’

দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকা গাড়িচালক ও সহকারীদের অনেককে দীর্ঘ যানজটের কারণে গাড়ির ভেতরেই ঘুমাতে দেখা গেছে। তবে পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থাকতে হলেও যাত্রীবাহী বাসগুলো এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফেরিতে উঠে যাচ্ছিল।

default-image

পাটুরিয়া-উথলী সড়কে আটকে থাকা বেশ কয়েকজন গাড়িচালক ও সহকারী জানান, সড়কের পাশে হোটেল না থাকায় খাওয়াদাওয়ার সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গাড়ি ছেড়ে বাইরে অন্য কোথাও যেতেও পারছেন না তাঁরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে আমানত শাহ নামের একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে ডুবে যায়। এর পর থেকে সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ায় পাটুরিয়া এলাকায় একটি ঘাট বন্ধ আছে। পাশাপাশি বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথের অনেক যানবাহন পাটুরিয়ায় আসায় গাড়ির বাড়তি চাপ রয়েছে।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ কবির জানান, পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ির প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। ঘাটে যানজট ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে উথলী মোড়ের আশপাশে মহাসড়কের পাশে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে দেওয়া হয়েছিল। আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত সেখানে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে ছিল।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জিল্লুর রহমান জানান, ফেরিডুবির ঘটনার পর থেকে পাটুরিয়ার একটি ঘাট পুরোপুরি বন্ধ। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৬টি ফেরি চালু আছে। এসব ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে যাত্রী ভোগান্তি বিবেচনা করে বাস পারাপারে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ির চাপ পড়েছে।

দৌলতদিয়া ঘাটেও যানবাহনের চাপ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় কয়েক দিন ধরেই যানবাহনের চাপ দেখা যাচ্ছে। ফেরিস্বল্পতা, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ আর পাটুরিয়া ঘাটে ফেরিডুবির ঘটনা যানবাহনের চাপ কমছে না বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

আজ সকাল থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। এসব সারিতে থাকা প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাককে ফেরি পেতে এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে যাত্রীবাহী বাসগুলোর ফেরিতে উঠতে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগছে বলে জানা গেছে।

default-image

যশোরের বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা রডবোঝাই ট্রাকের চালক আমিনুল ইসলাম জানান, বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গোয়ালন্দ মোড়ে এসে লাইনে দাঁড়ান তিনি। পরদিন গতকাল বিকেল চারটার দিকে তিনি ঘাটের সিরিয়ালে আসেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, সকাল ১০টা বেজে গেছে। এখনো ঘাট থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে। অর্থাৎ ঘাটেই প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে সিরিয়ালে আছেন তিনি। তবে এখনো ফেরির দেখা পাননি। ফেরি পেতে আরও তিন-চার ঘণ্টা লাগবে বলে তিনি ধারণা করেন।

নারায়ণগঞ্জগামী ট্রাকচালক আলামিন হোসেন বলেন, ‘গতকাল দুপুর দুইটায় ঘাট এলাকায় আসছি। এটা কোনো ব্যবস্থা হলো! এখন আর কুলাতে পারছি না। ফেরিতে উঠতে আরও কয় ঘণ্টা সময় লাগবে, সেটাই ভাবছি। বাসের সঙ্গে কিছু পণ্যবাহী ট্রাকও ফেরিতে উঠতে দেওয়া উচিত।’

দৌলতদিয়ার পাঁচটি ঘাটের মধ্যে ৫ ও ৭ নম্বর ঘাটের পর ৩ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরির পন্টুন বসানো হলেও তেমন সুবিধা হচ্ছে না। আগামী সপ্তাহে আরও একটি পন্টুন বসানোর কথা রয়েছে। তখন কিছুটা হলেও সমস্যা কমবে।
জামাল হোসেন, ব্যবস্থাপক, বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন জানান, ২০টি ফেরির মধ্যে ১টি দুর্ঘটনায় পড়েছে। আরও তিনটি ফেরি ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ডুবে যাওয়া ফেরি থেকে যানবাহন তোলার কাজে আরেকটি ফেরি ব্যবহৃত হচ্ছে। এদিকে দৌলতদিয়ার পাঁচটি ঘাটের মধ্যে ৫ ও ৭ নম্বর ঘাটের পর ৩ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরির পন্টুন বসানো হলেও তেমন সুবিধা হচ্ছে না। আগামী সপ্তাহে আরও একটি পন্টুন বসানোর কথা রয়েছে। তখন কিছুটা হলেও সমস্যা কমবে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে জানান, এ মুহূর্তে ফেরিস্বল্পতা রয়েছে। পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে ডুবন্ত ফেরি আমানত শাহ উত্তোলনের পরই ঘাটটি আবার চালু করা হবে। পাশাপাশি ফেরির সংখ্যা বাড়ানো গেলে যানবাহন পারাপারের সমস্যা তেমন থাকবে না বলে আশা করেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন