সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সকালে ব্যক্তিগত বিভিন্ন ছোট গাড়ি এবং লঞ্চের যাত্রীর চাপ থাকলেও যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসের চাপ ছিল না। তবে দুপুরের পর এ চিত্র পাল্টে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা হওয়ায় আজ সকালে ঈদ করতে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। দুপুরে পর এসব যাত্রী ও যানবাহনের চাপ পড়ে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায়। এ কারণে বেলা তিনটার পর থেকে পাটুরিয়া প্রান্তে যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়।

বিকেল চারটার দিকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকা ছেড়ে এসব যাত্রীবাহী বাস পাটুরিয়া-উথলী সংযোগ সড়কের নবগ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে সারবদ্ধভাবে রাখা হয়। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বাসের ভেতর আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী ও শিশু যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল আরও বেশি।

পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল-যোবায়েদ বলেন, সকালে যাত্রীবাহী বাসের চাপ ছিল একেবারে স্বাভাবিক। তবে দুপুরের পর থেকে যাত্রীবাহী বাস আসতে শুরু করলে বিকেল চারটার দিকে এই চাপ বেড়ে যায়। এ সময় পাটুরিয়া-উথলী সড়কে দুই শতাধিক যাত্রীবাহী বাস দীর্ঘ সারিতে আটকা পড়ে।
ঈদে পরিবার নিয়ে একে ট্রাভেলস পরিবহনের একটি বাসে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরে বাড়ি যাচ্ছেন চাকরিজীবী শাখাওয়াত হোসেন (৪৫)। বিকেল চারটার দিকে পাটুরিয়ার তিন নম্বর ঘাট এলাকায় কথা হলে তিনি বলেন, বেলা দুইটার দিকে আরসিএল মোড় এলাকায় এসে তাঁদের গাড়িটি আটক পড়ে। এর আগে শতাধিক যাত্রীবাহী বাস নদী পারের অপেক্ষা ছিল। বিকেল চারটায়ও তাঁদের বাসটি ফেরির নাগাল পায়নি।

দর্শনা এক্সপ্রেস পরিবহনের বাসে স্ত্রী ও এক শিশুসন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গাগা গ্রামে বাড়িতে যাচ্ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী জোবায়ের আহমেদ (৩৫)। তিন ঘণ্টায় ফেরিতে উঠতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে যাত্রীবাহী বাস পারাপার বন্ধ। এখানে (পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ) ফেরির সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। রমজানে রোজা রেখে ঘাটে গরমের মধ্যে আটকে থাকা কী যে কষ্টকর অভিজ্ঞতা, যাঁরা ভুক্তভোগী, তাঁরাই শুধু অনুভব করতে পারবেন!’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি কারণে এবার মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌপথে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। প্রথমত মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার নৌপথে যাত্রীবাহী বাস পারাপার বন্ধ থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যেতে ওইসব যানবাহনের যাত্রী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ পারাপার হতে এখানে আসেন। এ ছাড়া করোনায় বিধিনিষেধ থাকায় গত দুই বছর অনেকে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যেতে পারেননি। এ কারণে এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষ পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাক (বাণিজ্য) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, আজ বিকেলে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ঈদে ঘরমুখী যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ পড়েছে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বড়-ছোট মিলিয়ে ২০টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফেরিগুলো সচল থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যাগ না হলে ঈদযাত্রায় এই বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন