বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে তোষা পাট ৫০০ হেক্টর ও দেশি পাট ৩৫০ হেক্টর জমিতে। মার্চের শেষে ও এপ্রিলের শুরুতে পাটের বীজ জমিতে বপন করা হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে কর্তন করা হয়। বৃষ্টিনির্ভর ফসল পাট চাষের মৌসুমে তেমন বৃষ্টি হয়নি। তবুও পাটগাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হয়েছে।
আজ শুক্রবার তারাগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চাষিরা ভ্যান-ট্রলিতে করে পাট বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন। বাজারদর ভালো থাকায় অনেক খুশি কৃষকেরা। প্রতি মণ পাট মানভেদে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

কথা হয় ওই হাটে পাট বিক্রি করতে আসা বালাপাড়া গ্রামের কৃষক সাদিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাই, মুই এবার দেড় একর জমিত ৪৫ হাজার টাকা খরচ করি ধান নাগাছনু। শুকি-ফুকি ধান হইচে ১৪০ মণ। সেই ধান ৭৯০ টাকা করি বেচে ৬৫ হাজার টাকা লাভ করছুন। ফির ৫০ শতক জমিত ৯ মণ পাট পাছুন। তাঁর থাকি তিন মণ পাট বেচপার আলচুনু। প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৬০০ টাকা করি বেচানু। ধানের পর পাটের দামও ভালো পানু। এমতোন দাম থাকলে হামার কৃষকের আর কষ্ট থাকির নেয়।’

সাদিকুলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সয়ার দোলাপাড়া গ্রামের সামাদ হোসেন বলেন, ‘এবার কোষ্টা (পাট) হামার সোনা হইচে। কাটা–মাড়াই থাকি দাম বাড়তে আছে। পাটাত এমতোন লাভ হামার ১০ বছরেও হয় নাই। এক একর জমির পাট বেচে খরচ বাদ ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ হওচে।’

বুড়িরহাট বাজারে কথা হয় শেখপাড়া গ্রামের মোক্তারুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাইজান দেশে করোনার যে অবস্থা। পাট-ধানের দাম না হইলে হামার কৃষকের সমস্যায় হইল হয়। মোর এক একর জমিতে পাটবীজ, সেচ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক বাবদ খরচ হইচে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা। পাট পাছুন ১৯ মণ। তাক ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে বেচাছুন। খরচ বাদে লাভ হইচে ২৩ হাজার ৯০০ টাকা।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাসসুম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় ৩৩০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ বেশি হয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থকরী এ ফসল চাষে কৃষকদের সব সময় উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় চাষিরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন