বিজ্ঞাপন

বেড়িবাঁধ ভাঙনে দুর্দশার কথা তুলে ধরে স্থানীয় তরুণ সমাজকর্মী নিয়াজ মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, বলেশ্বর নদের তীরের পশ্চিম কাঠালতলী ও উত্তর কাঠালতলী বেড়িবাঁধের আধা কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে তিন দিন ধরে পানি ঢুকে লোকালয় ও নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। এতে ওই এলাকার দুই হাজার মানুষের ঘরে চুলা জ্বলছে না।

ওই এলাকার বাসিন্দা লাইলী বেগম (৩৬) ও আয়শা আক্তার (২৩) বলেন, তিন দিন আগে সর্বশেষ রান্নাবান্না করেছিলেন। এখন বাঁধ ভেঙে পানিবন্দী হয়ে তিন দিন হলো রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। ছেলেমেয়েদের মুখে সামান্য কিছু শুকনা খাবার ছাড়া গত তিন দিনে কিছু দিতে পারেননি। পশ্চিম কাঠালতলী ও উত্তর কাঠালতলী বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনাপানিতে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় তাঁদের মতো এলাকায় আরও কয়েক শ পরিবারের রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে বলে জানান তাঁরা।

default-image

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের দুই ইউপি সদস্য আবদুস সত্তার খান ও আবু বক্কর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, বাঁধ ভেঙে এ নিম্নাঞ্চলের তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এই পানিবন্দী মানুষের রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। বাঁধ ভেঙে লোনাপানি ঢুকে পড়ায় খাওয়ার পানির কষ্টও চরম অবস্থায় পৌঁছেছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের পাথরঘাটা ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, বছরের পর বছর ধরে বলেশ্বর ও বিষখালী নদ–নদীর তীরের মানুষগুলো জোয়ারের পানিতে নাকানিচুবানি খাচ্ছে। জোয়ারের চাপে ছয় কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। এই মানুষগুলোর রান্নাবান্না বন্ধসহ সুপেয় পানির দারুণ কষ্ট চলছে। বাঁধের কারণে মানুষের ভোগান্তির অবসান হচ্ছে না।

পাথরঘাটা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু প্রথম আলোকে বলেন, পাথরঘাটায় ৬ দশমিক ২৭ হেক্টর পুকুর ও ঘেরের পৌনে ৮ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। এতে অবকাঠামোসহ প্রায় ১৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্যজীবীদের।

পাউবো বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আলম বলেন, ওই বেড়িবাঁধগুলো নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে আগেই প্রস্তাব পাঠানো আছে। মহামারি করোনার জন্য বিলম্ব হচ্ছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে ওই সব এলাকার বাঁধ মেরামত ও সংস্কারকাজ তিন দিন ধরে চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন