default-image

নেত্রকোনার ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়কের আশারানী খালের ওপর বিকল্প বেইলি সেতুটি ভেঙে গেছে। আজ শনিবার দুপুরে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এতে করে সড়কটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সেতুর দুই পাশে আটকা পড়েছে যানবাবহন।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়কটি প্রশস্তকরণসহ সংস্কার এবং অন্তত ১১টি বেইলি সেতু ভেঙে পাকা সেতু নির্মাণকাজ চলছে। আশারানী খালে সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। যানবাহন পারাপারের জন্য পাশের বিকল্প বেইলি সেতুটি করা হয়। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, সেতু নির্মাণকাজের সময়সীমা শেষ হলেও এখনো অর্ধেক কাজ বাকি। আর সড়কের কাজও চলছে ঢিমেতালে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। সড়ক নির্মাণকাজের জন্য একটি পাথরবোঝাই ট্রাক কলমাকান্দার উদ্দেশে যাওয়ার সময় বেইলির পাটাতনসহ খালে পড়ে যায়।

আশারানী খালের পাশে পাবই চৌরাস্তা বাজার। ওই বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল মিয়া বলেন, একটি পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ে সেতুটি ভেঙে গেছে। কিছুদিন পরপর এভাবে সেতুটি ভেঙে যায়। পরে তা সচল করতে তিন–চার দিন লেগে যায়। আর পাকা সেতুটির নির্মাণকাজ খুবেই ঢিমেতালে চলছে। তিনি জানান, এই সড়কে চলাচলকারীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে ধরমপাশা, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এ ছাড়া প্রতিদিন সহস্রাধিক পর্যটক কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে আসেন। কিন্তু সেতুগুলোসহ সড়কটি এখনো সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। যদিও এখন চলমান লকডাউনে যানবাহন কিছুটা কম।

সিএনজিচালক রহিম মিয়া জানান, একজন রোগী নিয়ে তিনি কলমাকান্দায় যাচ্ছিলেন। পথে সেতুটি ভাঙা। তাই নেত্রকোনায় আসতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সড়কটিতে যাত্রীর অভাব হয় না। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। প্রতিদিন শহর থেকে শত শত মানুষ কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে পাহাড় দেখতে যায়। কিন্তু সেতু ও সড়কটির সংস্কারকাজ ধীরগতি থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আশারানী সেতুর দক্ষিণ পাশে ট্রাক নিয়ে আটকা পড়েছেন চালক রমিজ উদ্দিন। তিনি বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, প্রায় সাত বছর ধরে সড়কটি ভাঙা। এখন সংস্কারকাজ শুরু হলেও খুবই ধীরগতি।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা থেকে কলমাকান্দা উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘ সাত বছর ধরে বেহাল অবস্থা। সড়কটি সংস্কারে ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল একনেকে ৩১০ কোটি ৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণে প্রায় ১০০ কোটি টাকা, ১১টি পিসি গার্ডার ও আরসি গার্ডার সেতুতে ৭০ কোটি টাকা এবং সড়ক সংস্কারে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। দুটি প্যাকেজে সেতুগুলো ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর এবং দুটি প্যাকেজে গত ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

সেতুগুলোর কাজ পায় ‘এসিএল এমএইচসিএল ডন জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর সড়কের কাজ পায় ‘জন জেভি (জন্মভূমি ওয়াহেদুজ্জামান নির্মিতি)’ ও ‘রানা বিল্ডার্স’ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ‘জন জেভি’ ঠাকুরাকোনা থেকে গোমাই সেতুর অ্যাপ্রোচ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার ৭২ কোটি টাকার কাজ পায়। সেতুগুলোর কাজ শেষের সময়সীমা ২০২০ সালের জানুয়ারি আর সড়কের মেয়াদ ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। সে হিসাবে সেতুর কাজের সময়সীমা এক বছর তিন মাস আগে শেষ হয়। পরে কাজ শেষের সময়সীমা বাড়ানো হয় বলে জানিয়েছে সওজ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসিএল এমএইচসিএল ডন জেভির ব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম প্রথম আলোকে সন্ধ্যায় বলেন, পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ে বিকল্প সেতুটি ভেঙে গেছে। তা মেরামত করতে দু–তিন দিন লেগে যাবে। কারণ, বিভিন্ন মালামাল সংগ্রহ করতে হবে। তিনি জানান, সেতুগুলোর কাজ শেষের মেয়াদ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে আশা করা যাচ্ছে, সব কাজ শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়া আশারানীর স্থানে কোনো বিকল্প সেতু প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। ঠিকাদারকে সওজের পক্ষ থেকে বলে তা করানো হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন