default-image

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদ থেকে অবৈধভাবে ‘চিপ পাথর’ উত্তোলনের সময় হাতেনাতে ৯ জনকে আটক করে ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন আচার্যের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স আজ সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করে।

যাঁদের জরিমানা করা হয়েছে, তাঁরা হলেন মো. আশরাফ আলী, আবু বক্কর, মোশাহিদ আলম, মোহাম্মদ আলী, কাদির হোসেন, আক্তার হোসেন, আলী আমজদ, রূপ মিয়া ও মোশাররফ হোসেন। তাঁদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চিপ পাথর উত্তোলনকারীরা কৌশল বদল করে ধলাই নদের মাঝখানে গিয়ে বালু সেচে চিপ পাথর উত্তোলন শুরু করেছিলেন। সোমবার সকালে টাস্কফোর্সের একটি দল এই অবৈধ তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার অভিযান চালায়। এ সময় ধলাই নদের মাঝখান থেকে নৌযানে চিপ পাথরসহ নয়জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের ১ লাখ টাকা করে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানা-পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সন্ধ্যায় ইউএনও সুমন আচার্য প্রথম আলোকে বলেন, বর্ষার পর শুষ্ককাল সামনে রেখে এ ধরনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এতে নদের তীর অরক্ষিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। অবৈধ এই তৎপরতায় মৌসুমের শুরুতেই অভিযান চালানো হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

ধলাই সিলেটের অন্যতম সীমান্ত নদ। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জির পাদদেশ থেকে ধলাই নেমে এসেছে বাংলাদেশে। বর্ষাকালে এই নদ দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামলে বালু-পাথরের স্তর জমা হয়। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশ দিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদ থেকে যন্ত্র দিয়ে বালু তুলে সেই বালু সেচে ছোট ছোট পাথর আহরণ করা হয়। পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় এভাবে উত্তোলন অবৈধ। শুষ্ক মৌসুম সামনে রেখে একশ্রেণির বালু-পাথর কারবারিরা চিপ পাথর উত্তোলন শুরু করায় গত ২৮ অক্টোবর প্রথম অভিযানে ১০টি শ্যালো মেশিনসহ ১ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছিল। এ সময় পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত ১৭টি ট্রাক্টর ও ৫টি নৌকাও জব্দ করা হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0