মোনাহার বলেন, ‘চার দিন থ্যাকে যমুনার জলে ভাসিচ্চিম লৌকাত রাত কাটাচ্চি। বসতঘর-গোয়ালঘরত বুকসমান পানি। গরু বান্ধিবার অ্যাকনা জায়গা নাই। দুই বিঘা জমিনত ঘাস আবাদ করচিনু, বানত শ্যাষ। খড় নাই, ভুসি নাই। লিজেরাই খাবার পাচ্চি না, গরুক খাওয়ামু কী? কয়ডা দিন পর কোরবানির হাট বসলে এই গরু ব্যাচমো।’

শুধু মোনাহার ব্যাপারী নয়, যমুনা নদীর ঢলে দুর্গম চরে বসতঘরের সঙ্গে কৃষকের গোয়ালও প্লাবিত হওয়ায় গরু-ছাগল নিয়ে দিশাহারা অবস্থা হাজারো খামারির। সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্গত এলাকায় ৫০ হাজার গরু ও ৬০ হাজার ছাগল নিয়ে বিপাকে আছেন খামারি ও চাষিরা। যমুনার ঢলের পানিতে ১১৫ একর ঘাস তলিয়ে গেছে।

খাটিয়ামারি চরের খামারি দলিলুর রহমান গত মঙ্গলবার ৯টি গরু নৌকায় তুলে আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছিলেন যমুনা নদীর চাড়ালকান্দি ঘাটে। আগেই সহায়–সম্বলসহ পরিবারের সদস্যরা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। দলিলুর রহমান বলেন, চার দিন ধরে বসতঘরে কোমরপানি। গোয়াল ভাসছে যমুনার ঢলে। বানের ঢলে ভেসে গেছে খড়, ডুবে গেছে ঘাসের জমি। উঁচু মাচায় তিন দিন ধরে বেঁধে রাখলেও অনাহারে ছটফট করছে গোয়ালের গরু। বাধ্য হয়ে নৌকায় গরু তুলে আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন।

দলিকার চরের খামারি আজিজার রহমান ধারদেনা করে সাতটা গরু পুষেছেন। এবারের কোরবানির হাটে খামারের গরু বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু কোরবানির হাট না জমতেই যমুনার ঢলে দুর্গম চর প্লাবিত হয়েছে। একটা উঁচু জায়গায় কোনোরকমে সাতটি গরু বেঁধে রেখেছিলেন। নিজে আশ্রয় নিয়েছেন নৌকায়। আজিজার বলেন, ‘যমুনার ঢলত সাত দিন ধরে ভাসিচ্চি। লিজেকেরেই থাকপার জায়গা নাই। সাত দিন থ্যাকে লৌকাত সংসার পাতিচি। ভাত রান্ধিবার জায়গা নাই। গরুক খিলামো কী?’

পূর্ব সুজায়েতপুর চরের আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে বানভাসি শতাধিক পরিবার। তাদের সঙ্গে রয়েছে কয়েক শ গরু–ছাগল। পূর্ব সুজায়েতপুর চরের মিস্টার ব্যাপারী বলেন,‘বসতভিটা, জায়গাজমি যমুনার ভাঙনত সব শ্যাষ। লিজেরা না খ্যায়া আচি। ছয়ডা গরুর খাবার নাই, দিশাহারা অবস্থা।’

উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, যমুনার ঢল ও নদীভাঙনে তাঁর ইউনিয়নে ২৫০টি আশ্রয়হারা পরিবারের ৩ হাজার মানুষ এখন খুব কষ্টে আছে। ঘরহারা মানুষের নিজেদেরই মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। গোয়ালের গরু-ছাগল নিয়ে দিশাহারা অবস্থা তাঁদের।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন