বলাই মিয়া জানান, তাঁর ঘরে এখন কোমরসমান পানি। সেখানে থাকতে না পেরে গত শুক্রবার পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে তিনি বাড়ি ছাড়েন। উঠেছেন বরমচাল ইউনিয়নের পূর্ব মাধবপুরে এক মামার বাড়িতে। এখানেও হাওরের পানি ঘরের ভিটেতে ছুঁই ছুঁই করছে। তাঁর একটি ভাঙাচোরা নৌকা আছে, সেটি নিয়ে প্রতিদিন নিজের বাড়ি দেখে আসেন তিনি। এরই মধ্যে তাঁর ঘরের বেড়ার অনেকটুকু ভেসে গেছে। পাকা খুঁটি আঁকড়ে আছে কিছু। হাকালুকি হাওরের ঢেউ নিয়ে এখন তাঁর সব ভয়। বারবার ঢেউ ঘরে এসে আঘাত করলে ঘরটিও পড়ে যেতে পারে।

পানি বাড়ের। রুজিরোজগার নাই। কেমনে চলতাম। খালি আমিই না, সারা (এলাকার) মানুষই টেনশনে, কেমনে বাঁচত। এর মাঝে এত বড় হাওর, তুফানর ডর। তুফান দিলে ঢেউয়ে ঘরবাড়ি থাকত নায়
বলাই মিয়া, হাকালুকি হাওরপাড়ের বাসিন্দা

পূর্ব মাধবপুরের ওই সড়কে দেখা হয় মুক্তাদিরপুর গ্রামের মো. মানিক মিয়া, ফয়সল আহমদ ও ফখরুল ইসলামের সঙ্গে। তাঁরা জানান, তাঁদের ঘরেও পানি। কেউ অন্যের ঘরে উঠেছেন, কেউ কোনোরকমে নিজের ঘরে থাকার চেষ্টা করছেন। চারদিকের খবর জানতে নৌকা নিয়ে বিকেলে সড়কে এসেছেন। যাঁদের নৌকা আছে, তারা এদিক সেদিক একটু যেতে পারেন। যাঁদের নৌকা নেই, তাঁরা ঘরেই পানিবন্দী হয়ে আছেন। বরমচাল-ভুকশিমইল সড়কে পানি ওঠায় পাঁচ-ছয় দিন ধরে এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ আছে।

বলাই মিয়া বলেন, ‘২০০৪ সালে বড় পানি অইছিল (বন্যা হয়েছিল)। কিন্তু উঠান পর্যন্ত পানি উঠছিল। ঘর ছাড়া লাগছিল না। জীবনের পয়লা (প্রথম) পানির লাগি এবার ঘর ছাড়লাম। এ রকম পানি আমার বোঝও (বোঝার বয়সে) অইছে না (হয়নি)। মুরব্বিরা কইছইন (বলেছেন) আরও একবার ৩৬ বাংলায় এ রকম পানি অইছিল (হয়েছিল)।’

তিনি জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নৌকা দিয়ে তাঁর বাড়িসহ পানিতে তলিয়ে যাওয়া সবার বাড়িঘর ঘুরে দেখেছেন। তবে এ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি তিনি। কারও কাছে কিছু চাইতেও অভ্যস্ত নন। নিজের বলতে দুই শতকের একটুকরো ভিটেই আছে। বর্গাচাষ করে সংসার চালান। কিছু ধান ছিল, সেগুলো সঙ্গে করে নিয়ে আসতে পেরেছেন। যেখানে উঠেছেন, সেখানে নিজেদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে চলছেন। ঘরে পানি ওঠায়, ঘরবাড়ি ছাড়ায় সময়টা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তারপরও এই পরিস্থিতিতে শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবছেন না, অন্যদের নিয়েও ভাবনা রয়েছে তাঁর।

বলাই মিয়া বলেন, ‘পানি বাড়ের। রুজিরোজগার নাই। কেমনে চলতাম। খালি আমিই না, সারা (এলাকার) মানুষই টেনশনে, কেমনে বাঁচত। এর মাঝে এত বড় হাওর, তুফানর ডর। তুফান দিলে ঢেউয়ে ঘরবাড়ি থাকত নায়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন