রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাকীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পানির দাম বাড়ানো সরকারি সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। তবে রাজশাহী নগরে বর্ধিত মূল্যও অনেক জায়গার চেয়ে কম।

২০০০ সাল থেকে সিটি করপোরেশন পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ শুরু করে। বর্তমানে ১০৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছে ওয়াসা। নগরে পানির চাহিদা প্রতিদিন ১১ কোটি ৩২ লাখ লিটার। তবে ওয়াসা ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারে। ৭১২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে এ পানি নগরে সরবরাহ করা হয়।

দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে ওয়াসাকে সরে আসতে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম মানববন্ধন ও সমাবেশ করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিশোধ। ৯ ফেব্রুয়ারি একই দাবিতে মানববন্ধন করে ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগর শাখা। এরপর থেকে দলটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিএনপি মানববন্ধন করে।

নগরের কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা লতা সাহা বলেন, এই পানিতে কালো কালো ময়লা পাওয়া যায়, দুর্গন্ধ বের হয়। এই পানি পান করা যায় না। বহুবার তাঁদের পেটের পীড়ায় ভুগতে হয়েছে। পানির দাম তিন গুণ বৃদ্ধি করা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মো. ফয়সল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পানিতে ক্ষতিকর কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বিভিন্ন আন্ত্রিক ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি করে। কলিফর্মের উপস্থিতি আছে এমন পানি পান করলে ডায়রিয়া, আমাশয়, রক্ত আমাশয়, কলেরা, টাইফয়েড ছাড়াও ভাইরাল হেপাটাইটিসে (জন্ডিস) আক্রান্ত হতে পারে মানুষ। রাজশাহীতে পানি পান করতে হলে অন্তত ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মো. ফয়সল।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে গত বছরের নভেম্বরে পানি পরীক্ষা করে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পায়।

রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা প্রথম আলোকে বলেন, পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই পানি টাকা দিয়ে কিনবে কেন মানুষ? মানুষকে বিনা মূল্যে পানি দিতে হবে। ওয়াসা যে পানি দেয়, এটা কিছু কাজ ছাড়া আর কিছুই করা যায় না। এই দূষিত পানির দাম বাড়িয়ে সরকার সুপেয় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করার চেষ্টা করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন