বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন বলেন, চলতি বছরের ২১ জুন সিটি করপোরেশনের সাধারণ সভায় মাসিক পানির বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। ১ জুলাই থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে গত ২ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশন গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। এর পর থেকে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, প্রতিবাদ সভাসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করছেন নগরবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন।

বর্ধিত বিল প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার বেলা দুইটায় নগরের উত্তর কাজীটুলা এলাকায় মানববন্ধন করা হয়। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে উত্তর কাজীটুলা, কাজীটুলা উচাসড়ক, কলবাখানি, রায়হোসেন কলবাখানি, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, গোয়াইটুলা ও চাষনীপীর এলাকার কয়েক শ বাসিন্দা অংশ নেন।

সিটি করপোরেশনের পানি শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে আধা ইঞ্চি ব্যাসের লাইনের ক্ষেত্রে আবাসিক গ্রাহকদের ২০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা এবং বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা বিল নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনের ক্ষেত্রে আবাসিক গ্রাহকদের ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা এবং বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি গ্রাহকদের ৭০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনের ক্ষেত্রে আবাসিক ও সরকারি গ্রাহকদের জন্য ১ হাজার টাকার পরিবর্তে দেড় হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের দেড় হাজার টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ২০০ টাকা, প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম দাম বাড়ানোর বিষয়টিকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, পানি অপরিহার্য উপাদান। নামমাত্র মূল্যে পানি নাগরিকদের সরবরাহ করা উচিত। যদি দাম বাড়াতেই হয়, তাহলে ৫ অথবা ১০ শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে।

সবকিছুরই দাম বেড়েছে। পানির উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী, মেয়র, সিলেট সিটি

সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, করোনা মহামারির সময়ে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও অমানবিক। এই সংকটময় মুহূর্তে পানির বিল বাড়ানোর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তাই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত। দাম না বাড়িয়ে বরং যে পরিমাণ টাকা গ্রাহকদের কাছে বকেয়া আছে, সেগুলো উত্তোলন করা দরকার।

গ্রাহকের অভিযোগ, নগরবাসীর কোনো মতামত না নিয়ে সিটি করপোরেশন একতরফাভাবে পানির বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। অনেক সময় তাঁরা ঠিকমতো সরবরাহের পানিও পান না। একদিকে করোনা পরিস্থিতি, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নগরবাসীর জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বর্ধিত বিল প্রত্যাহার করে নগরবাসীর ভোগান্তি কিছুটা লাঘব করা হোক।

জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান আহমদ বলেন, পানির দাম লাগামহীনভাবে বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। দলগতভাবে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে তাঁরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানিয়েছেন, নগরে দৈনিক পানির চাহিদা কমবেশি ৮ কোটি লিটার। প্রতি মাসে পানি উৎপাদন বাবদ সিটি করপোরেশনের গড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা খরচ হয়। এর বিপরীতে গ্রাহকদের কাছ থেকে গড়ে প্রতি মাসে ৪৮ থেকে ৪৯ লাখ টাকা আদায় হয়। গ্রাহকদের কাছে বকেয়া রয়েছে ১২ থেকে ১৩ কোটি টাকা। এখন পানির দাম বাড়ানোর ফলে যদি শতভাগ টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হয়, তাহলে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা সিটি করপোরেশনের কোষাগারে জমা হবে।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সিটি করপোরেশনের পরবর্তী সাধারণ সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। পুনর্বিবেচনা করা যাবে কি না, সেটা সভাতেই আলোচনা হবে। তবে সবকিছুরই দাম বেড়েছে। পানির উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। এরপরও বিষয়টি সাধারণ সভায় আলোচনা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন