default-image

ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় ওষুধ বিক্রির দোকান হারুনুর রশিদের। পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়া ওষুধগুলো তিনি বাইরে বের করে রাখছিলেন। এর আগে তাঁকে দোকানের ভেতরে আটকে থাকা কয়েক ইঞ্চি পানি সেচতে হয়েছে বলেও জানান।

হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ওষুধর দোকান থইয়া বাড়িত গেছলাম মালসামানা বাচানিত। এর বাদে আইয়া দেখি দোকানত কোমর হিমা পানি। দোকানর হখলতা দেখি পানিত ভাসের। বাদে বাড়িত আসলাম সবরে লইয়া। পাঁচ দিন বাদে আইয়া দোকান খুলিয়া দেখি আমার হকলতা শেষ। কিতা করমু বুঝলাম না। আমার মাথা এখন আউলাইল গেছেগি।’ তাঁর দাবি, বন্যার পানিতে তাঁর দোকানের প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকার ওষুধ নষ্ট হয়েছে। এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না।

এই বাজারের ক্লাব রোড এলাকার মুদিদোকানি জামাল স্টোরের মালিক রুয়েল মিয়া। তিনিও দোতলার গুদাম থেকে পণ্য নামিয়ে নিচের দোকানে বিক্রির জন্য সেগুলো আলমারিতে থরে থরে সাজিয়ে রাখছিলেন।

রুয়েল মিয়া বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আখতা (দ্রুত) করি ঢলের পানি দোকানো আইয়া হামাই গেছে। কোমরপানি দেখিয়া দোকানোর মালাইন আটাইতাম পারছি না। এবো বুঝরাম না কী পরিমাণ ক্ষতি অইছে। যেগুন ভালা আছে, ইগুন বিকি করবার লাগি হাজাইরাম।’

দোকান খুললেও ওই বাজারে বিদ্যুৎ–সংযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। অনেক মুদিদোকানে ফ্রিজে রাখা খাদ্যপণ্য গলে-পচে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় ছোট ছোট ডিঙিনৌকা ও সেচ যন্ত্রচালিত ট্রলারে করে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে খাবার কিনতে বাজারে আসছেন মানুষজন।

ছাতকের ১ নম্বর কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলু মিয়া। বাজারে গিয়েছিলেন নিজের ওয়ার্ডের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য কিছু শুকনা খাবার কিনতে।
ফজলু মিয়া বলেন, তাঁর ওয়ার্ডে প্রায় আটটি পাড়াগ্রাম আছে। সবাই বন্যার্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাননি। বরাদ্দকৃত ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন