বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানে এ জনপদে। কপোতাক্ষ নদ আর খোলপেটুয়া নদীর আট স্থানের বেড়িবাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম কমবেশি পানিতে তলিয়ে ৩০-৩২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৯ মাস মানুষ পানিবন্দী ও আশ্রয়হীন থাকার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রিং বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢোকা বন্ধ করার পর তারা বাড়ি ফিরে। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তারা ঋণ ও ধারদেনা করে বাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করে। জমি তৈরি করে চিংড়ি চাষ শুরু করে। কিন্তু তিন মাস না যেতেই আবার আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের ১৩টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়, আবার মানুষ গৃহহীন হয়। আশ্রয়হীন এসব মানুষ সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। অনেকে এলাকার উঁচু স্থানে পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে তাতে বসবাস শুরু করে। ইয়াসে ভেঙে যাওয়া চারটি স্থানের মধ্যে তিনটিতে রিং বাঁধ দিয়ে দুই মাস আগে লোকালয়ে পানি ঢোকা বন্ধ করা গেছে। কিন্তু খোলপেটুয়া নদীর বন্যতলা এলাকার বাঁধ মেরামত করা যায়নি। ফলে ওই এলাকা দিয়ে বন্যতলা, প্রতাপনগর, কুড়িকাউনিয়া ও মান্দারবাড়িয়া চারটি গ্রামে জোয়ার-ভাটার পানি ঢুকে পড়ে। এসব এলাকার প্রায় ছয় হাজার মানুষ নিতান্ত কষ্টে দিনযাপন করছে। কাঁচা ঘরবাড়ি একটিও দাঁড়িয়ে নেই। আধাপাকা ঘরও পড়ে গেছে। যারা এলাকায় রয়ে গেছে তারা পানিবন্দী অবস্থায় বসবাস করছে।

প্রতাপনগর গ্রামের পাউবোর বাঁধে পলিথিন দিয়ে ছাউনি করে বসবাস করছেন রমিচ্ছা খাতুন (৫৫)। সম্প্রতি কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, এভাবে আর পারা যায় না। কোনো কাজ নেই। আয় না থাকায় তাদের চুলায় হাঁড়ি উঠে না। আধাপেটা খেয়ে জীবন বাঁচাতে হয়।

একই এলাকায় আবদুর রব (৬৭) জানান, সব ভেসে গেছে। পানির মধ্যে চৌকি উঁচু করে তিনি আসেন বাড়িতে। অন্যরা চলে গেছেন মাগুরায়। বাঁধ যে কবে মেরামত হবে, তা কেউ বলতে পারে না। বাঁধ দিতে না পারলে এই জনপদ একদিন হারিয়ে যাবে। তারাও হারাবেন বাপ-দাদার ঠিকানা।

default-image

বন্যতলা এলাকার আবদুল হাই গাজী জানান, তাঁর চৌদ্দ পুরুষের ভিটাবাড়ি সব গেছে নদীভাঙনে। নদীতে মাছ ধরে কোনোরকমে চলে তাঁর পাঁচ সদস্যের সংসার। অথচ বাঁধ মেরামত হচ্ছে ধীরগতিতে। গ্রামে মানুষ না থাকলে তখন বাঁধ দিয়ে কী হবে প্রশ্ন তাঁর। তিনি আরও বলেন, একটু দ্রুত বাঁধ মেরামত যাতে হয় সেই ব্যবস্থা করেন।

সাতক্ষীরা পাউবোর (বিভাগ-২) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানান, বন্যতলার কাজ শুরু হয়েছে মাসখানেক আগে। কাজ দ্রুত গতিতেই হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এ মাসের মধ্যেই লোকালয়ে পানি ঢোকা বন্ধ করা যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন