গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার জানান, আজ বেলা পৌনে একটার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাছ আলী ব্যাপারী ঢালারচর বেড়িবাঁধ সড়কের মাথায় গোয়ালন্দের রাখালগাছী এলাকায় ছিলেন। সেখানে তিনি স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ওই সময় নদীপথে ট্রলারে করে কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর ট্রলারে করেই হামলাকারীরা চলে যায়। সন্ত্রাসীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সর্বহারা দলের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছেন ওসি।

ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল রাখালগাছীর দূরত্ব গোয়ালন্দ ঘাট থানা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। নদীপথে ট্রলারে করে যাওয়ার পর দীর্ঘপথ হেঁটে পৌঁছাতে হয়। খবর পাওয়ার পর থানা–পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

ঢালারচর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবু বক্কার বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাখালগাছী এলাকায় একটি রাস্তার নির্মাণকাজ চলছে। ওই রাস্তার ১৩০০ মিটার মাটি ভরাটের কাজের সঙ্গে তিনি ছাড়াও আক্কাছ আলী ব্যাপারী, আদু মণ্ডলসহ আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। ওই কাজের তদারকি করতে ঘটনাস্থলে আদু মণ্ডল ও আক্কাছ ব্যাপারী উপস্থিত ছিলেন। বেলা পৌনে একটার দিকে চার-পাঁচজন ব্যক্তি সাধারণ মানুষের মতো ঘটনাস্থলে এসে পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্কাছ ব্যাপারীর ঘাড়ে কোপ দেয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে মাটিতে পড়ে যান। এরপর একে একে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারলো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সন্ত্রাসীরা নৌকা নিয়ে চলে যায়।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় সাধারণত ওই অঞ্চলে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তেমন কেউ যাতায়াত করেন না। কাজের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে তিনিও ছুটে যান। আক্কাছ আলী ব্যাপারী নিষিদ্ধ চরমপন্থী দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যকার কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার পর বীরদর্পে এলাকা ছাড়ে। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঘটনাস্থলে অবস্থান করা বেড়ার আমিনপুর থানার ওসি রওশন আলী বলেন, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা ঘটনাস্থলে আছেন। গোয়ালন্দ থানা–পুলিশের জন্য অপেক্ষা করছেন। ওই থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে তদন্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, নিহত আক্কাছ একসময় চরমপন্থী সর্বহারা দলের সক্রিয় নেতা ছিলেন। প্রতিপক্ষ দলের সন্ত্রাসীরা পূর্বশক্রতার জেরে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন