default-image

‘ঘরে থাকুন’, ‘মাস্ক ব্যবহার করুন’, ‘নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলুন’, ‘বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন’, এমন সব সচেতনতামূলক বার্তায় পাবনার চাটমোহর উপজেলার সড়কগুলো রঙিন সাজে সেজেছে। আলপনায় তুলে আনা হয়েছে সেসব সচেতনতামূলক বার্তা। সেই সঙ্গে আঁকা হয়েছে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে ধরা পড়া করোনাভাইরাসের চিত্রের ইলাস্ট্রেশন। মানুষকে সচেতন করতে সড়কগুলোকে এভাবে রঙে সাজিয়েছে চেতনায় চাটমোহর নামের একটি সংগঠন।


পাবনার চাটমোহরে গত ১৬ এপ্রিল জেলার প্রথম কোভিড–১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। লকডাউন ঘোষণা হয় পুরো উপজেলা। বাজার, দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু বন্ধের নির্দেশ থাকলেও সেভাবে কেউ তা মেনে চলেনি। ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়েছে শত মানুষ। সম্প্রতি অফিস ও গণপরিবহন খুলে দেওয়ায় সড়কে মানুষের চাপ আরও বাড়ছে। বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক।


এই অবস্থায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগণকে সচেতন করতে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চিত্রাঙ্কন ও সচেতনতামূলক নানা বার্তা লেখার কাজ শুরু করেছে চেতনায় চাটমোহর নামের সংগঠনটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে গড়ে ওঠে সংগঠনটি। এর সদস্যরা নিরাপদ দূরত্ব মেনে গত শুক্রবার এ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এতে সড়কে চলা মানুষ অনেকটাই সচেতন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীজনেরা।

default-image

স্থানীয় লোকজন ও সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেসবুক থেকে গড়ে ওঠা সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার সকাল থেকে তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চিত্রাঙ্কন ও সচেতনতামূলক বার্তা লেখার কাজ শুরু করেন। সংগঠনের নানা বয়সী লোক রংতুলি হাতে নেমে পড়েন রাস্তায়। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সড়ক অঙ্কনের এ কাজে যুক্ত হন উপজেলার ফাউন্ডেশন অব হিউমিনিটি, তারুণ্যের আলো, বিডি-ক্লিন চাটমোহর ও স্বপ্ন পক্ষ নামে আরও কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা।


উপজেলা সদরের জার্জিস মোড় থেকে শুরু হয় চিত্রাঙ্কন কার্যক্রম। পুরো সড়কে করোনাভাইরাসের চিত্র আঁকা হয়। লেখা হয় ‘ঘরে থাকুন’, ‘মাস্ক ব্যবহার করুন’, ‘নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলুন’, ‘বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন’সহ নানা বার্তা। নানা রঙে আঁকা চিত্র আর কথায় রঙিন হয়ে উঠছে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক।


চেতনায় চাটমোহরের অ্যাডমিন জেমান আসাদ জানান, মানুষ অপ্রয়োজনে পথে বের হচ্ছে। মুখে মাস্ক থাকছে না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে না। তাই পথচারীদের জন্য পথেই সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত শুক্রবার শুরু হওয়া এই কার্যক্রম পাঁচ দিন ধরে চলবে। জার্জিস মোড় ছাড়াও উপজেলার জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান জিরো পয়েন্ট, থানা মোড়, শাহী মসজিদ মোড় ও উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে এই বার্তা লেখা হবে।


কর্মসূচির সমন্বয়ক অঙ্কনশিল্পী মানিক দাস বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এখন সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। ফলে এই উদ্যোগ। এখন রাস্তায় নামলেই মানুষ চিত্র ও বার্তাগুলো চোখের সামনে দেখতে পাবে। এতে একটু হলেও তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে বলে মনে করি।’


এ প্রসঙ্গে চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কে এম বেলাল হোসেন বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন কাজে আসা গ্রামের মানুষ একটু অসচেতন। তারা অনেক কিছুই মানতে চায় না। উপজেলায় এসে এসব চিত্র দেখে এসব মানুষ একটু হলেও সচেতন হবে।


চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সজীব শাহরীন বলেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরপরও বহু মানুষ বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছে। রাস্তায় এসে তারা এসব বার্তা দেখলে সজাগ হবে আশা করা যায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সচেতনতা জরুরি। সচেতনতাই পারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করতে। সড়কের এই চিত্রাঙ্কন মানুষের মনকে নাড়া দেবে। ফলে দেশব্যাপী এমন নানা প্রচারের মাধ্যমে জনসাধারণকে সচেতন করা যেতে পারে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0